
মোঃ কামাল উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে মামলা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মামলা সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহের জেরে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মামলার বিবাদী মো. আজিম হোসেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৫৫(১)/২০২১ এবং জি.আর নং-৭৭১/২০২১-এর ১ নম্বর আসামি মো. আজিম হোসেন দাবি করেন, মামলার বাদী লুৎফুর রহমান মাস্টার মামলা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করেন। তার অভিযোগ, মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে প্রায় ৪৫ হাজার টাকাসহ আরও কিছু অর্থ নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি।
মো.আজিম হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্ধারিত তারিখে বাদীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে বিষয়টি নিয়ে কোতোয়ালী থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ তাকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেয়। সেই পরামর্শ অনুযায়ী তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিষয়টি জানতে গেলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনার পর থেকে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে বলে দাবি করেন মো. আজিম হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার, সংশ্লিষ্ট ডিআইজি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি ও নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে সচেতন নাগরিকদের একাংশও মনে করছেন, যদি মামলা নিষ্পত্তির নামে অর্থ লেনদেন, প্রতারণা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এতে বিচারপ্রার্থীদের আস্থা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি আইনের শাসনও আরও শক্তিশালী হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
ভুক্তভোগী মো. আজিম হোসেন দেশের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।