
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
স্বপ্ন ছিল মেয়েকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত একজন চিকিৎসক হিসেবে দেখবেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও পরিশ্রমের পর এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় সফল হয়ে চিকিৎসক হয়েছেন কুলিয়ারচরের জান্নাতুল ফেরদৌসী সেতু। মেয়ের এই অর্জনের সংবাদে আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন তার বাবা বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম আলম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে চিকিৎসক হিসেবে পেশাজীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রেখেছেন জান্নাতুল ফেরদৌসী সেতু। তার এই সাফল্যে পরিবারে বইছে আনন্দের জোয়ার। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসী সেতু কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের কৃতি সন্তান। তিনি বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম আলমের বড় মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার ছিল প্রবল আগ্রহ। নিজের লক্ষ্যে অটুট থেকে ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা করে অবশেষে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, জান্নাতুল ফেরদৌসী বরাবরই পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন। চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি পরিশ্রম করেছেন। মেডিকেল শিক্ষার কঠিন ও ব্যস্ত সময়েও নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। তার এই সাফল্যের পেছনে পরিবারের উৎসাহ ও সহযোগিতার পাশাপাশি রয়েছে তার নিজের অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস।
মেয়ের সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম আলম। তিনি বলেন, সন্তানের জীবনের একটি বড় স্বপ্ন পূরণ হতে দেখা একজন বাবার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। মেয়ের এই অর্জনের জন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।
তিনি বলেন, “সন্তানের সাফল্যের আনন্দ আসলে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। মেয়েকে চিকিৎসক হিসেবে দেখতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়। আমি চাই, সে শুধু একজন ভালো চিকিৎসকই নয়, একজন মানবিক মানুষ হিসেবেও নিজেকে গড়ে তুলুক। তার চিকিৎসাজ্ঞান ও দক্ষতা যেন সাধারণ মানুষের উপকারে আসে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।”
জানা গেছে, ভবিষ্যতে চিকিৎসা পেশার মাধ্যমে মানুষের সেবা করাই ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসী সেতুর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে সমাজের সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে তার আগ্রহ রয়েছে। একজন চিকিৎসকের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
তার চিকিৎসক হওয়ার খবরে কুলিয়ারচরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও আনন্দ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এলাকার একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অর্জন নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। তার সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে অনুপ্রাণিত করবে।
স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনে করছেন, জান্নাতুল ফেরদৌসী সেতুর এই সাফল্য কেবল একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, পরিবারের স্বপ্ন এবং একজন তরুণীর নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকার ফল।
চিকিৎসক হিসেবে নতুন পথচলা শুরু করা ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসী সেতুর সামনে এখন আরও বড় দায়িত্ব। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করে একজন দক্ষ, সৎ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তার পরবর্তী লক্ষ্য। কুলিয়ারচরের মানুষও তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন এবং কর্মজীবনে সফলতার জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন।