ইউএনওর মানবিক হস্তক্ষেপে নতুন জীবন পেল ভাঙনের মুখে থাকা একটি পরিবার
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
Update Time :
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
১৯৬
Time View
ইউএনওর মানবিক হস্তক্ষেপে নতুন জীবন পেল ভাঙনের মুখে থাকা একটি পরিবার
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকারের মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে ভাঙনের মুখে থাকা একটি পরিবারে আবারও ফিরে এসেছে সুখ, শান্তি ও পারস্পরিক আস্থা। প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী ও জনবান্ধব উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, সময়মতো সহমর্মিতাপূর্ণ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ একটি পরিবারকে বিচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জানা গেছে, কুলিয়ারচর পৌরসভার নয়াগাঁও বেপারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সানাউল্লাহ মিয়ার সঙ্গে তাঁর স্ত্রী জুলেখা আক্তারের পারিবারিক কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। ভুল বোঝাবুঝি, মতবিরোধ ও পারস্পরিক দূরত্বের কারণে তাদের সংসার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতির উন্নতির আশায় জুলেখা আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন এবং বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের আবেদন জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। তিনি উভয় পক্ষকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। নির্ধারিত দিনে স্বামী-স্ত্রী উপস্থিত হলে তিনি ধৈর্যের সঙ্গে তাদের পৃথক ও যৌথভাবে বক্তব্য শোনেন। শুধু অভিযোগের দিকটি নয়, বরং বিরোধের মূল কারণ, পারিবারিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাগুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করেন। আলোচনার একপর্যায়ে ইউএনও দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, দায়িত্ববোধ এবং ক্ষমাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি তাদের বোঝান যে, সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি বা মতের অমিলের কারণে একটি সুন্দর সংসার ভেঙে যাওয়া শুধু স্বামী-স্ত্রীর জন্য নয়, পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং সমাজের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। তাঁর আন্তরিক পরামর্শ, সহমর্মী মনোভাব এবং বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনায় স্বামী-স্ত্রী নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন এবং নতুনভাবে সংসার শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। আলোচনার শেষে উভয়েই অতীতের সব বিরোধ ভুলে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্মান ও ভালোবাসার ভিত্তিতে নতুন জীবন শুরু করার অঙ্গীকার করেন। পুনর্মিলনের এ দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে। পরিবারটির সদস্যরাও প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। শুধু সমঝোতার মধ্যেই দায়িত্ব শেষ করেননি ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার। দাম্পত্য জীবনের নতুন অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি পুনর্মিলিত দম্পতির হাতে একটি উপহার তুলে দেন। তাঁর এই আন্তরিকতা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায় এবং নবদম্পতির নতুন পথচলায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এ সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা, কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজহার উদ্দিন লিটন, সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম, সাংবাদিক মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম, সাংবাদিক আলী হায়দারসহ বেপারিপাড়া মহল্লার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও সমাজকল্যাণমূলক হিসেবে উল্লেখ করেন। উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, পারিবারিক বিরোধ আদালতে গড়ানোর আগে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সংস্কৃতি সমাজে আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের এমন উদ্যোগ মানুষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করে এবং পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও উপজেলা প্রশাসন সামাজিক ও মানবিক সংকট নিরসনে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। স্থানীয় সচেতন মহলও ইউএনওর এ ভূমিকার প্রশংসা করেছে। তাদের মতে, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা বা সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জীবন ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুলিয়ারচরের ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার সেই দায়িত্ববোধেরই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন। প্রশাসনের আন্তরিকতা, ধৈর্য এবং মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একটি ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারে আবারও সুখের আলো ফিরেছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারিবারিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
256
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকারের মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে ভাঙনের মুখে থাকা একটি পরিবারে আবারও ফিরে এসেছে সুখ, শান্তি ও পারস্পরিক আস্থা। প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী ও জনবান্ধব উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, সময়মতো সহমর্মিতাপূর্ণ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ একটি পরিবারকে বিচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জানা গেছে, কুলিয়ারচর পৌরসভার নয়াগাঁও বেপারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সানাউল্লাহ মিয়ার সঙ্গে তাঁর স্ত্রী জুলেখা আক্তারের পারিবারিক কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। ভুল বোঝাবুঝি, মতবিরোধ ও পারস্পরিক দূরত্বের কারণে তাদের সংসার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতির উন্নতির আশায় জুলেখা আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন এবং বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের আবেদন জানান।
অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। তিনি উভয় পক্ষকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। নির্ধারিত দিনে স্বামী-স্ত্রী উপস্থিত হলে তিনি ধৈর্যের সঙ্গে তাদের পৃথক ও যৌথভাবে বক্তব্য শোনেন। শুধু অভিযোগের দিকটি নয়, বরং বিরোধের মূল কারণ, পারিবারিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাগুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করেন।
আলোচনার একপর্যায়ে ইউএনও দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, দায়িত্ববোধ এবং ক্ষমাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি তাদের বোঝান যে, সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি বা মতের অমিলের কারণে একটি সুন্দর সংসার ভেঙে যাওয়া শুধু স্বামী-স্ত্রীর জন্য নয়, পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং সমাজের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। তাঁর আন্তরিক পরামর্শ, সহমর্মী মনোভাব এবং বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনায় স্বামী-স্ত্রী নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন এবং নতুনভাবে সংসার শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
আলোচনার শেষে উভয়েই অতীতের সব বিরোধ ভুলে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্মান ও ভালোবাসার ভিত্তিতে নতুন জীবন শুরু করার অঙ্গীকার করেন। পুনর্মিলনের এ দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে। পরিবারটির সদস্যরাও প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
শুধু সমঝোতার মধ্যেই দায়িত্ব শেষ করেননি ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার। দাম্পত্য জীবনের নতুন অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি পুনর্মিলিত দম্পতির হাতে একটি উপহার তুলে দেন। তাঁর এই আন্তরিকতা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায় এবং নবদম্পতির নতুন পথচলায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
এ সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা, কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজহার উদ্দিন লিটন, সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম, সাংবাদিক মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম, সাংবাদিক আলী হায়দারসহ বেপারিপাড়া মহল্লার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও সমাজকল্যাণমূলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, পারিবারিক বিরোধ আদালতে গড়ানোর আগে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সংস্কৃতি সমাজে আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের এমন উদ্যোগ মানুষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করে এবং পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও উপজেলা প্রশাসন সামাজিক ও মানবিক সংকট নিরসনে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
স্থানীয় সচেতন মহলও ইউএনওর এ ভূমিকার প্রশংসা করেছে। তাদের মতে, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা বা সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জীবন ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুলিয়ারচরের ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার সেই দায়িত্ববোধেরই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
প্রশাসনের আন্তরিকতা, ধৈর্য এবং মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একটি ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারে আবারও সুখের আলো ফিরেছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারিবারিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।