মোঃ আমির হোসেন জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর প্রযুক্তির জগতে এগিয়ে যেতে এখন আর ব্যয়বহুল কম্পিউটার বা আধুনিক ল্যাবই একমাত্র ভরসা নয়। ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং শেখার আগ্রহ থাকলে একটি স্মার্টফোনও হয়ে উঠতে পারে জ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডার। তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শরীয়তপুরের তিন ভাইবোন। শরীয়তপুর সদর উপজেলার কানারচর এলাকার বাসিন্দা আবুল রাজ্জাক ও তানজিনা বেগমের সন্তান হাবিবা সুলতানা (১২), তাওফিক হাসান ও তানভীর হাসান। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের ঘরে কোনো কম্পিউটার নেই। তবুও মায়ের স্মার্টফোনে ইউটিউবের বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও দেখে নিজেরাই কোডিং ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শিখে তৈরি করছে বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপ। জানা যায়, বাবা আবুল রাজ্জাক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কর্মরত এবং মা তানজিনা বেগম গৃহিণী। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানদের প্রযুক্তি শেখার আগ্রহে সবসময় উৎসাহ দিয়ে আসছেন তারা। ইউটিউব থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহের শুরু। ধীরে ধীরে কোডিং শেখার পাশাপাশি অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে দক্ষতা অর্জন করে তিন ভাইবোন। ইতোমধ্যে তারা নামাজের সময়সূচি, হিসাব-নিকাশ, ইসলামিক তথ্যসহ দৈনন্দিন ব্যবহার উপযোগী কয়েকটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে। এছাড়া বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারযোগ্য ছোটখাটো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নিয়েও কাজ করছে। তাওফিক হাসান জানায়, “ইউটিউব দেখে আমরা কয়েকটি অ্যাপ এবং একটি কথা বলার অ্যাপ তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে আরও উন্নত অ্যাপ তৈরি করে প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে চাই।” তানভীর হাসান বলে, “অ্যাপ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র বানানোরও আগ্রহ রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমাদের এলাকায় সহজে পাওয়া যায় না। আর পেলেও উচ্চমূল্যের কারণে সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।” তাদের বাবা আবুল রাজ্জাক বলেন, “অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে সন্তানদের জন্য একটি কম্পিউটার কিনে দিতে পারিনি। তাই তারা মায়ের মোবাইল ফোনেই ইউটিউব দেখে শিখছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে তারা আরও ভালো করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।” স্থানীয় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, “ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি শিশুদের এমন আগ্রহ সত্যিই প্রশংসনীয়। সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেলে তারা ভবিষ্যতে দেশের প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।” অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তাদের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। বরং একটি স্মার্টফোনকে শিক্ষার হাতিয়ার বানিয়ে নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে শরীয়তপুরের এই তিন ভাইবোন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে তারা দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে।
21
মোঃ আমির হোসেন
জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রযুক্তির জগতে এগিয়ে যেতে এখন আর ব্যয়বহুল কম্পিউটার বা আধুনিক ল্যাবই একমাত্র ভরসা নয়। ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং শেখার আগ্রহ থাকলে একটি স্মার্টফোনও হয়ে উঠতে পারে জ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডার। তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শরীয়তপুরের তিন ভাইবোন।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার কানারচর এলাকার বাসিন্দা আবুল রাজ্জাক ও তানজিনা বেগমের সন্তান হাবিবা সুলতানা (১২), তাওফিক হাসান ও তানভীর হাসান। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের ঘরে কোনো কম্পিউটার নেই। তবুও মায়ের স্মার্টফোনে ইউটিউবের বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও দেখে নিজেরাই কোডিং ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শিখে তৈরি করছে বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপ।
জানা যায়, বাবা আবুল রাজ্জাক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কর্মরত এবং মা তানজিনা বেগম গৃহিণী। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানদের প্রযুক্তি শেখার আগ্রহে সবসময় উৎসাহ দিয়ে আসছেন তারা।
ইউটিউব থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহের শুরু। ধীরে ধীরে কোডিং শেখার পাশাপাশি অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে দক্ষতা অর্জন করে তিন ভাইবোন। ইতোমধ্যে তারা নামাজের সময়সূচি, হিসাব-নিকাশ, ইসলামিক তথ্যসহ দৈনন্দিন ব্যবহার উপযোগী কয়েকটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে। এছাড়া বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারযোগ্য ছোটখাটো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নিয়েও কাজ করছে।
তাওফিক হাসান জানায়, “ইউটিউব দেখে আমরা কয়েকটি অ্যাপ এবং একটি কথা বলার অ্যাপ তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে আরও উন্নত অ্যাপ তৈরি করে প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে চাই।”
তানভীর হাসান বলে, “অ্যাপ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র বানানোরও আগ্রহ রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমাদের এলাকায় সহজে পাওয়া যায় না। আর পেলেও উচ্চমূল্যের কারণে সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।”
তাদের বাবা আবুল রাজ্জাক বলেন, “অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে সন্তানদের জন্য একটি কম্পিউটার কিনে দিতে পারিনি। তাই তারা মায়ের মোবাইল ফোনেই ইউটিউব দেখে শিখছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে তারা আরও ভালো করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
স্থানীয় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, “ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি শিশুদের এমন আগ্রহ সত্যিই প্রশংসনীয়। সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেলে তারা ভবিষ্যতে দেশের প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।”
অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তাদের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। বরং একটি স্মার্টফোনকে শিক্ষার হাতিয়ার বানিয়ে নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে শরীয়তপুরের এই তিন ভাইবোন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে তারা দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে।