উদ্বোধনের আগেই পোরশায় আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভাড়া, অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ।
মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি।
Update Time :
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৭
Time View
উদ্বোধনের আগেই পোরশায় আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভাড়া, অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ।
মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি। নওগাঁর পোরশায় জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)-এর আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (আরটিসি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার আগেই মিলনায়তন ভাড়া দিয়ে টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম-নীতি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ফি নির্ধারণ করে মিলনায়তন ভাড়া দিয়ে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সারাইগাছি-আড্ডা রোডের সারাইগাছি মোড় থেকে ৫০০ গজ দক্ষিণে অবস্থিত এই আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ ২০১৮ সালে শুরু হয় এবং ২০২৩ সালে তা সম্পন্ন হয়। তবে নির্মাণ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। বর্তমানে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির দেখভালের দায়িত্বে আছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোছাম্মদ জান্নাতুল মাওয়া। চারঘাট থেকেই তিনি পোরশায় নির্মিত আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া কেন্দ্রটি দেখভালের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সারাইগাছি গ্রামের খলিলুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। সরকারি খরচে কেন্দ্রটি পাহারা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন আরও সাতজন আনসার সদস্য। অভিযোগ উঠেছে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ শেষ হয়নি এবং এর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করা হয়নি। তারপরেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো লিখিত অনুমতি বা সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গত এক বছরে বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের সভা, সেমিনার ও কর্মশালা পরিচালনার জন্য প্রায় অর্ধশত দিন মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য ৩ হাজার ৭৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে অর্থ আদায় করা হয়েছে। ভাড়ার আদায়কৃত অর্থ আরটিসি কেন্দ্রের অফিশিয়াল ব্যাংক একাউন্টে অথবা চালানের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তার কিঞ্চিৎ অংশও সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হয়নি। কেন্দ্র দেখভালের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় প্রতিনিধি খলিলুর রহমান জানান, মিলনায়তন তিনিই ভাড়া দেন। এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। খলিল জানান, ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে নগদ আদায়কৃত টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ) মাধ্যমে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়ার কাছে পাঠানো হয়। তিনি সেই টাকা কী করেন, তা খলিল বলতে পারবেন না বলে জানান। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হলে প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়া মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, "কেন্দ্রটি আংশিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক পরামর্শ ও সম্মতিতে মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হয়।" তবে অর্থ রাজস্ব খাতে জমা হয় কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানাতে চাইলেও পরে আর তথ্য দিতে রাজি হননি। তবে বিষয়টিতে বিস্ময় প্রকাশ করে পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, "প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধনই হলো না, তাহলে ভাড়া দেওয়া হয় কীভাবে? আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার সরকারি কিছু বিধিবিধান রয়েছে। সেই নিয়ম তারা অনুসরণ করেছেন কিনা বা এর অর্থ আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন কিনা—সে বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। এ ধরনের কোনো কার্যক্রম সম্পর্কে আমি অবগত নই।" উদ্বোধনের আগেই সরকারি সম্পদ বাণিজ্যিক ব্যবহারে অর্থ লেনদেনের এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের মানুষের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন।
9
মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি।
নওগাঁর পোরশায় জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)-এর আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (আরটিসি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার আগেই মিলনায়তন ভাড়া দিয়ে টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম-নীতি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ফি নির্ধারণ করে মিলনায়তন ভাড়া দিয়ে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সারাইগাছি-আড্ডা রোডের সারাইগাছি মোড় থেকে ৫০০ গজ দক্ষিণে অবস্থিত এই আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ ২০১৮ সালে শুরু হয় এবং ২০২৩ সালে তা সম্পন্ন হয়। তবে নির্মাণ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। বর্তমানে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির দেখভালের দায়িত্বে আছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোছাম্মদ জান্নাতুল মাওয়া। চারঘাট থেকেই তিনি পোরশায় নির্মিত আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া কেন্দ্রটি দেখভালের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সারাইগাছি গ্রামের খলিলুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। সরকারি খরচে কেন্দ্রটি পাহারা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন আরও সাতজন আনসার সদস্য।
অভিযোগ উঠেছে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ শেষ হয়নি এবং এর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করা হয়নি। তারপরেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো লিখিত অনুমতি বা সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গত এক বছরে বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের সভা, সেমিনার ও কর্মশালা পরিচালনার জন্য প্রায় অর্ধশত দিন মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য ৩ হাজার ৭৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে অর্থ আদায় করা হয়েছে। ভাড়ার আদায়কৃত অর্থ আরটিসি কেন্দ্রের অফিশিয়াল ব্যাংক একাউন্টে অথবা চালানের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তার কিঞ্চিৎ অংশও সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হয়নি।
কেন্দ্র দেখভালের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় প্রতিনিধি খলিলুর রহমান জানান, মিলনায়তন তিনিই ভাড়া দেন। এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। খলিল জানান, ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে নগদ আদায়কৃত টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ) মাধ্যমে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়ার কাছে পাঠানো হয়। তিনি সেই টাকা কী করেন, তা খলিল বলতে পারবেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হলে প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়া মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, “কেন্দ্রটি আংশিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক পরামর্শ ও সম্মতিতে মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হয়।” তবে অর্থ রাজস্ব খাতে জমা হয় কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানাতে চাইলেও পরে আর তথ্য দিতে রাজি হননি।
তবে বিষয়টিতে বিস্ময় প্রকাশ করে পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধনই হলো না, তাহলে ভাড়া দেওয়া হয় কীভাবে? আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার সরকারি কিছু বিধিবিধান রয়েছে। সেই নিয়ম তারা অনুসরণ করেছেন কিনা বা এর অর্থ আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন কিনা—সে বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। এ ধরনের কোনো কার্যক্রম সম্পর্কে আমি অবগত নই।”
উদ্বোধনের আগেই সরকারি সম্পদ বাণিজ্যিক ব্যবহারে অর্থ লেনদেনের এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের মানুষের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন।