মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় মাদকবিরোধী যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযানে ৪ পিস ইয়াবাসহ হৃদয় (২৯) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে ভৈরব থানার খড়মপাড়া এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে প্রশাসন, বাংলাদেশ আনসার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা অংশ নেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের বিষয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহজনক আচরণের কারণে হৃদয়কে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াছিন খন্দকার। এ সময় বাংলাদেশ আনসারের সদস্য এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভৈরব সার্কেলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর আদালতে মামলার আবেদন উপস্থাপন করলে শুনানি শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিস্তার রোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কুলিয়ারচরেও মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি মাদক ব্যবসা, পরিবহন বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মাদকের কারণে তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতাও প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ কারণে সন্দেহজনক কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে। তারা মনে করেন, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা নিরুৎসাহিত হবে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। উল্লেখ্য, আটক হৃদয় স্থানীয়ভাবে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত হলেও প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে নেওয়া আইনগত ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত পরিচয় বা সামাজিক পরিচিতি নয়, অপরাধের ধরন ও প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত রায় প্রদান করেছেন। প্রশাসনের দাবি, মাদক নির্মূলে যৌথ টাস্কফোর্সের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
47
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় মাদকবিরোধী যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযানে ৪ পিস ইয়াবাসহ হৃদয় (২৯) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে ভৈরব থানার খড়মপাড়া এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে প্রশাসন, বাংলাদেশ আনসার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা অংশ নেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের বিষয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহজনক আচরণের কারণে হৃদয়কে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াছিন খন্দকার। এ সময় বাংলাদেশ আনসারের সদস্য এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভৈরব সার্কেলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর আদালতে মামলার আবেদন উপস্থাপন করলে শুনানি শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিস্তার রোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কুলিয়ারচরেও মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি মাদক ব্যবসা, পরিবহন বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মাদকের কারণে তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতাও প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ কারণে সন্দেহজনক কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে। তারা মনে করেন, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা নিরুৎসাহিত হবে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
উল্লেখ্য, আটক হৃদয় স্থানীয়ভাবে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত হলেও প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে নেওয়া আইনগত ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত পরিচয় বা সামাজিক পরিচিতি নয়, অপরাধের ধরন ও প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত রায় প্রদান করেছেন।
প্রশাসনের দাবি, মাদক নির্মূলে যৌথ টাস্কফোর্সের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।