
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ছাতিরচর এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক আট বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা দোষীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার ছাতিরচর গ্রামের ওই শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়। ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। এ সময় তারা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, শিশুদের প্রতি সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। তারা বলেন, অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নারী ও শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগীর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে শিশু সুরক্ষার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।
উল্লেখ্য, শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন গুরুতর অপরাধ। এমন ঘটনার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।