
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ছাতিরচর বাজারসংলগ্ন একটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী শিশু পাশের বাড়ির বাসিন্দা। ঘটনার পর শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজনকে অবহিত করেন। পরে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে মুরাদ মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন।
আটক ব্যক্তি মুরাদ মিয়া, মৃত আব্দুল মোতালেবের ছেলে এবং ছাতিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পরে গ্রামবাসী তাকে নিকলী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার বক্তব্যের ভিত্তিতেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিকলী থানা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তকে থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। অভিযোগের প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাতিরচর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মহল মনে করেন, এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিকলী থানায় মামলার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।