কুলিয়ারচরে মানববন্ধনে নিরপরাধদের অব্যাহতির আহ্বান, জুয়েল হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
Update Time :
মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬,
22 Time View
কুলিয়ারচরে মানববন্ধনে নিরপরাধদের অব্যাহতির আহ্বান, জুয়েল হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে অটোরিকশা চালকের ছেলে জুয়েল মিয়া (২০) হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিচার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার দাবিতে বড়চারা এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (২০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা নতুন বাজার এলাকায় আগরপুর-পোড়াদিয়া মহাসড়কের পাশে "১নং গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ" ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বড়চারা ও আশপাশের গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জুয়েল হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির তাঁত বিষয়ক সম্পাদক ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামছুল আলম (এলেম)। তিনি দাবি করেন, জুয়েল হত্যা মামলায় তাকে, তার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছেলে, ভাতিজাসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে, অথচ তারা কেউ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তার ভাষ্য, আদালত থেকে মামলার নকল সংগ্রহ করে বিষয়টি জানতে পেরে তারা বিস্মিত হয়েছেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানান। একই কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মো. নাদিরুজ্জামান খসরু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. মেজবাহুল হক খোকা, বিএনপি নেতা মো. সেলিম মিয়া, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য সাফি উদ্দিন ও ইউনিয়ন তরুণ দলের সাবেক সভাপতি মো. নাঈম আনোয়ার। বক্তারা বলেন, জুয়েল হত্যার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ১০ জুলাই বিকেলে জুয়েল মিয়া এক বন্ধুর ডিমবাহী গাড়িতে করে জাফরাবাদ মোড় থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। বড়চারা বাজারের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত গাড়ির গতিরোধ করে তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। গ্রামবাসীর দাবি, লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে পূর্ব থেকে বিরোধ থাকলেও নিহত জুয়েল সেই বিরোধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন এবং ঘটনাটির শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. কুদ্দুস মিয়া অভিযোগ করেন, পুলিশ মামলা গ্রহণে বিলম্ব করায় তিনি গত ১৬ জুলাই কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে মামলায় কিছু নিরপরাধ ব্যক্তির নাম যুক্ত করা হয়েছে। তারা রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের প্রভাবমুক্ত থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করবে এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
36
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে অটোরিকশা চালকের ছেলে জুয়েল মিয়া (২০) হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিচার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার দাবিতে বড়চারা এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (২০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা নতুন বাজার এলাকায় আগরপুর-পোড়াদিয়া মহাসড়কের পাশে “১নং গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ” ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বড়চারা ও আশপাশের গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জুয়েল হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির তাঁত বিষয়ক সম্পাদক ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামছুল আলম (এলেম)। তিনি দাবি করেন, জুয়েল হত্যা মামলায় তাকে, তার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছেলে, ভাতিজাসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে, অথচ তারা কেউ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তার ভাষ্য, আদালত থেকে মামলার নকল সংগ্রহ করে বিষয়টি জানতে পেরে তারা বিস্মিত হয়েছেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
একই কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মো. নাদিরুজ্জামান খসরু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. মেজবাহুল হক খোকা, বিএনপি নেতা মো. সেলিম মিয়া, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য সাফি উদ্দিন ও ইউনিয়ন তরুণ দলের সাবেক সভাপতি মো. নাঈম আনোয়ার। বক্তারা বলেন, জুয়েল হত্যার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ১০ জুলাই বিকেলে জুয়েল মিয়া এক বন্ধুর ডিমবাহী গাড়িতে করে জাফরাবাদ মোড় থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। বড়চারা বাজারের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত গাড়ির গতিরোধ করে তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
গ্রামবাসীর দাবি, লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে পূর্ব থেকে বিরোধ থাকলেও নিহত জুয়েল সেই বিরোধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন এবং ঘটনাটির শিকার হয়েছেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. কুদ্দুস মিয়া অভিযোগ করেন, পুলিশ মামলা গ্রহণে বিলম্ব করায় তিনি গত ১৬ জুলাই কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে মামলায় কিছু নিরপরাধ ব্যক্তির নাম যুক্ত করা হয়েছে। তারা রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের প্রভাবমুক্ত থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করবে এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।