
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌর এলাকায় খেলার সময় বাড়ির সামনে থাকা খালে পড়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে পৌর এলাকার মিরারবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের খালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু হলো—মিরারবন্দ এলাকার বাসিন্দা মো. সুজন মিয়ার তিন বছর বয়সী ছেলে তাহসিন মিয়া এবং একই এলাকার মো. শাউন মিয়ার সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়ে মাওয়া আক্তার। তারা প্রতিবেশী হওয়ায় প্রায়ই একসঙ্গে খেলাধুলা করত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শনিবার দুপুরে বাড়ির আঙিনায় খেলছিল শিশু দুটি। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অজান্তেই তারা বাড়ির সামনের খালের দিকে চলে যায়। কিছু সময় পর শিশুদের খুঁজে না পেয়ে পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির সামনের খালে তাদের ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। দ্রুত উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল ও নিহতদের বাড়ির পরিবেশ। প্রতিবেশীরা জানান, কয়েক মুহূর্তের অসাবধানতায় দুটি নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় কেউই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পুরো এলাকাবাসীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
খবর পেয়ে বাজিতপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ ঘটনাটি ঘিরে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলেই ধারণা করা হলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. শহীদুল্লাহ বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সব দিক যাচাই করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে বাড়ির সামনের খালটি পানিতে পরিপূর্ণ থাকে। খালটির চারপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় ছোট শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরিবারের সামান্য অসতর্কতার সুযোগে শিশুরা সহজেই পানির কাছে চলে যেতে পারে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এ ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বাড়ির আশপাশে খাল, পুকুর কিংবা জলাশয় থাকলে শিশুদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়ের চারপাশে বেড়া নির্মাণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
দুই শিশুর অকাল মৃত্যু শুধু তাদের পরিবার নয়, পুরো এলাকাবাসীকেই শোকাহত করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।