
বরগুনা প্রতিনিধি:
জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বরগুনার আমতলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি উঠেছে।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও প্রায় ১৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ভবনে পাঠদান চললেও ভবনের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে জরাজীর্ণতার চিহ্ন। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভবনের অবস্থা দেখলেই ভয় লাগে—কখন কী ঘটে, সেই আতঙ্ক নিয়েই ক্লাস করতে হচ্ছে। তাই দ্রুত নিরাপদ ও আধুনিক ভবন নির্মাণের দাবি তাদের।
শিক্ষকরাও বলছেন, নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করা জরুরি। নতুন ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশও আরও উন্নত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী গোলাম ফারুক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ অনলাইনে ছড়ানোর বিষয়টিও সামনে আসে। তবে শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেল অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, খেলোয়াড় বাছাইয়ের বিষয়ে ওই ছাত্রীকে ডেকে কথা বলেছিলেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল ভালো। একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটাই প্রত্যাশা—জীর্ণ ভবন নয়, নিরাপদ ভবনে হোক পাঠদান। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কবে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।