মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: কুলিয়ারচর প্রতিনিধি: সাংবাদিকতা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পেশা। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব। তবে সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক নারীকে ঘিরে এমন কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিজেকে একটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি অর্থ গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ওই নারীর গলায় একটি পত্রিকার পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ঝোলানো ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে যার নাম উল্লেখ করা হয়, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সম্পাদক দাবি করেন, ওই নামে কোনো সাংবাদিক তাঁর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন এবং তিনি এমন কাউকে চেনেন না। এতে পরিচয়পত্রের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওই নারী নিজেকে নেত্রকোনা জেলার মদন থানার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব ইয়াসিন খন্দকার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি বা হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে আলোচনার একপর্যায়ে ওই নারী ভবিষ্যতে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে অঙ্গীকার করেন বলে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশার নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন। এতে প্রকৃত সাংবাদিকদের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় দিলে প্রয়োজনে তার পরিচয়পত্র, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের অফিস এবং কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা উচিত। সচেতন মহল মনে করছে, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, প্রতারণা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রশাসন, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকদের পরিচয় ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, কেউ যদি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অযৌক্তিক দাবি করেন বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম, স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন অথবা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সচেতনতা ও পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রতারণা এবং হয়রানির মতো ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
51
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কুলিয়ারচর প্রতিনিধি: সাংবাদিকতা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পেশা। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব। তবে সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক নারীকে ঘিরে এমন কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিজেকে একটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি অর্থ গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ওই নারীর গলায় একটি পত্রিকার পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ঝোলানো ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে যার নাম উল্লেখ করা হয়, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সম্পাদক দাবি করেন, ওই নামে কোনো সাংবাদিক তাঁর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন এবং তিনি এমন কাউকে চেনেন না। এতে পরিচয়পত্রের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওই নারী নিজেকে নেত্রকোনা জেলার মদন থানার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব ইয়াসিন খন্দকার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি বা হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
পরবর্তীতে আলোচনার একপর্যায়ে ওই নারী ভবিষ্যতে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে অঙ্গীকার করেন বলে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশার নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন। এতে প্রকৃত সাংবাদিকদের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় দিলে প্রয়োজনে তার পরিচয়পত্র, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের অফিস এবং কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা উচিত।
সচেতন মহল মনে করছে, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, প্রতারণা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রশাসন, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকদের পরিচয় ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও সতর্ক থাকতে হবে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, কেউ যদি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অযৌক্তিক দাবি করেন বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম, স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন অথবা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সচেতনতা ও পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রতারণা এবং হয়রানির মতো ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।