হুমায়ুন কবির | ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যুরো চীফ। সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে দুই ভাই মিলে কিনেছিলেন একটি ট্রাক। সেই ট্রাকের আয় দিয়েই চলত তাদের যৌথ সংসার। কিন্তু এক মুহূর্তের নিয়ন্ত্রণহীনতা মুহূর্তেই সব কেড়ে নিল। ময়মনসিংহের নান্দাইলে চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দিলে মো. হুমায়ুন (২৫) নামের এক তরুণ চালক নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৩ আগস্ট ২০২৬) ভোরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইলের আমলিতলা জোরপুকুরপাড় এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ও ট্রাকের সহকারী মামুন (১৮) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত হুমায়ুন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সরচাপুর গ্রামের মো. সুরুজ আলী শেখের ছেলে। দুর্ঘটনার পেছনের গল্প:— পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে শেরপুরের শ্রীবরদী থেকে ৪০০ বস্তা চাল বোঝাই করে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল ট্রাকটি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রোববার ভোর চারটার দিকে নান্দাইলের আমলিতলা এলাকায় পৌঁছালে চালক হুমায়ুন ট্রাকটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। দ্রুতগতির ট্রাকটি সজোরে গিয়ে ধাক্কা খায় মহাসড়কের পাশের একটি সেতুর রেলিংয়ে। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে, ট্রাকটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং কেবিনের ভেতরে আটকা পড়েন চালক হুমায়ুন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমায়ুনকে মৃত ঘোষণা করেন। শোকের ছায়া পরিবারে:— পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভাবের তাড়নায় মাত্র এক বছর আগে দুই ভাই মিলে কিস্তি ও জমানো টাকায় একটি ট্রাক কিনেছিলেন। চালক হুমায়ুন ও তার সহকারী ভাই মামুন দিনরাত এক করে সেই ট্রাক চালিয়ে যা আয় করতেন, তা দিয়েই কোনোমতে চলত তাদের যৌথ সংসার। একটি দুর্ঘটনা সেই পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ও বড় ভাইকে কেড়ে নেওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশের বক্তব্য:— নান্দাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জীবন কুমার রায় জানান, "প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে চালকের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
62
হুমায়ুন কবির | ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যুরো চীফ।
সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে দুই ভাই মিলে কিনেছিলেন একটি ট্রাক। সেই ট্রাকের আয় দিয়েই চলত তাদের যৌথ সংসার। কিন্তু এক মুহূর্তের নিয়ন্ত্রণহীনতা মুহূর্তেই সব কেড়ে নিল। ময়মনসিংহের নান্দাইলে চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দিলে মো. হুমায়ুন (২৫) নামের এক তরুণ চালক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৩ আগস্ট ২০২৬) ভোরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইলের আমলিতলা জোরপুকুরপাড় এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ও ট্রাকের সহকারী মামুন (১৮) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত হুমায়ুন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সরচাপুর গ্রামের মো. সুরুজ আলী শেখের ছেলে।
দুর্ঘটনার পেছনের গল্প:—
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে শেরপুরের শ্রীবরদী থেকে ৪০০ বস্তা চাল বোঝাই করে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল ট্রাকটি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রোববার ভোর চারটার দিকে নান্দাইলের আমলিতলা এলাকায় পৌঁছালে চালক হুমায়ুন ট্রাকটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। দ্রুতগতির ট্রাকটি সজোরে গিয়ে ধাক্কা খায় মহাসড়কের পাশের একটি সেতুর রেলিংয়ে।
সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে, ট্রাকটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং কেবিনের ভেতরে আটকা পড়েন চালক হুমায়ুন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমায়ুনকে মৃত ঘোষণা করেন।
শোকের ছায়া পরিবারে:—
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভাবের তাড়নায় মাত্র এক বছর আগে দুই ভাই মিলে কিস্তি ও জমানো টাকায় একটি ট্রাক কিনেছিলেন। চালক হুমায়ুন ও তার সহকারী ভাই মামুন দিনরাত এক করে সেই ট্রাক চালিয়ে যা আয় করতেন, তা দিয়েই কোনোমতে চলত তাদের যৌথ সংসার। একটি দুর্ঘটনা সেই পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ও বড় ভাইকে কেড়ে নেওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশের বক্তব্য:—
নান্দাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জীবন কুমার রায় জানান, “প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে চালকের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”