
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং মহাসড়কে রাতের বেলায় যানবাহন চলাচল আরও নিরাপদ করতে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সড়কের দুই পাশে থাকা ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে। ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ছয়সূতী বক্তরমারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সাংসদ ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের নির্দেশনায় এবং কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকারের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমটি শুরু হয়। গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কের দুই পাশে বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড় ও আগাছা অপসারণের মাধ্যমে সড়কের পরিবেশ আরও উন্মুক্ত ও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কটি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বিশেষ করে রাতের বেলায় দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এ সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু সড়কের কিছু অংশে দীর্ঘদিন ধরে ঝোপঝাড় ও আগাছা বেড়ে ওঠায় চালকদের দৃষ্টিসীমা ব্যাহত হচ্ছিল। একই সঙ্গে পথচারীদের জন্যও কিছু জায়গায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে বক্তরমারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সড়কের দুপাশ পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কের পাশের অপ্রয়োজনীয় গাছপালা ও আগাছা পরিষ্কার হলে চালকদের দৃষ্টিসীমা বাড়বে। ফলে রাতের বেলায় যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাও বাড়বে।
এ উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ। সড়কের পাশে ঘন ঝোপঝাড় থাকলে অনেক সময় অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হয়। এতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ঝোপঝাড় অপসারণের ফলে সড়কের পাশের জায়গাগুলো দৃশ্যমান হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিও সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরাও। তাদের মতে, শুধু একবার পরিষ্কার করলেই হবে না; মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। এতে সড়কের সৌন্দর্য যেমন বাড়বে, তেমনি দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাসড়কের পাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার থাকলে পথচারীদের চলাচলেও সুবিধা হবে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর যারা সড়ক ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়বে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ওই অংশে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ তৈরি হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মহাসড়কের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকাতেও এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।