
জাহাঙ্গীর আলম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
গভীর রাতে অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন সুবল চন্দ্র দাস
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় সুবল চন্দ্র দাস (৫৫) নামে এক লন্ড্রি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশা চালকসহ আরও অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত সুবল চন্দ্র দাস পৌর এলাকার দুর্গাপুর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি হিরালাল চন্দ্র দাসের পুত্র। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় একটি লন্ড্রি দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। শান্ত-স্বভাব ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে এলাকায় তার সুনাম ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন-এ পৌঁছান সুবল দাস। সেখান থেকে একটি অটোরিকশায় করে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
পথিমধ্যে খড়মপুর বাইপাস মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মালবাহী ট্রাক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রীরা ছিটকে পড়ে সড়কের ওপর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে। তবে গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সুবল চন্দ্র দাস।
দুর্ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে আখাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং ট্রাকটি জব্দ করে। ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট ১৮-৩৮০১ বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
তবে দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাক চালক পালিয়ে যায়। পরে তাকে আটক করা হয়।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
হঠাৎ এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা জানান, ওই বাইপাস সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করে, যার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি—
দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে
ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে
সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে হবে
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।