
আমজাদ হোসেন মিঠু
জেলা প্রতিনিধি , শ্রীনগর মুন্সিগঞ্জ|
১৪ এপ্রিল, ২০২৬
বাঙালির চিরায়ত উৎসব পহেলা বৈশাখ মানেই হারানো স্মৃতি রোমন্থন আর শেকড়ের টানে এক হওয়া। নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বরণ উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া ইউনিয়নের লস্করপুর গ্রামে বসেছিল এক অপূর্ব মিলনমেলা। প্রাণের বন্ধু জেলার অন্যতম সদস্য **মোঃ আব্দুল জব্বার খানের** আমন্ত্রণে তার নিজ বাসভবনে আয়োজিত হয় পান্তা-ইলিশের এক জমকালো ভোজ।
বন্ধুদের টানে মুন্সীগঞ্জ থেকে লস্করপুর
এদিন আব্দুল জব্বার খানের বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন **’৯৩ ব্যাচের’**একঝাঁক বন্ধু। মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই বন্ধুরা শৈশবের স্মৃতি বয়ে নিয়ে হাজির হন লস্করপুরে। আধুনিকতার ভিড়ে গ্রামবাংলার চিরচেনা আতিথেয়তায় সবাই মেতে ওঠেন অনাবিল আনন্দে।
আয়োজনের মূল আকর্ষণ: পান্তা-ইলিশ ও গল্প-আড্ডা
নববর্ষের সকালে মাটির সানকিতে পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ ভাজা আর হরেক রকমের ভর্তার আয়োজন করা হয়। তবে কেবল খাবার নয়, বন্ধুদের সাথে দীর্ঘদিনের জমে থাকা কথা আর আড্ডাই ছিল এই আয়োজনের প্রাণ। লস্করপুরের শান্ত ছায়ানিবিড় পরিবেশে দীর্ঘ সময় পর বন্ধুদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই।
আগত বন্ধুরা জানান, মোঃ আব্দুল জব্বার খানের আন্তরিকতা এবং চমৎকার আতিথেয়তায় তারা অভিভূত। লস্করপুর গ্রামে এমন সুশৃঙ্খল এবং আন্তরিক আয়োজনের প্রশংসা করে বন্ধুরা বলেন:
> “কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে পহেলা বৈশাখের এই দিনে বন্ধুদের সাথে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার আনন্দই আলাদা। জব্বার খানের আতিথেয়তা আমাদের পুরনো দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।”
আয়োজক মোঃ আব্দুল জব্বার খান জানান, বন্ধুদের সাথে এই সম্পর্ক আজীবনের। নববর্ষের এই আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই তিনি প্রতি বছর এমন উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। দিনব্যাপী এই আড্ডা, হাসি আর গানে লস্করপুর গ্রামটি যেন এক টুকরো আনন্দ দ্বীপে পরিণত হয়েছিল।