
কামরুল ইসলাম
০১৮৮৩০৮৮০৮৪
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ও চরম্বা,কলাউজান , পদুয়া পুটিবিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পাহাড়, ফসলি জমির টপ সয়েল এবং
সেলো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের মহোৎসবে মেতেছে কতিপয় বালু ও মাটিখেকো চক্র।
এই নিয়ে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতারা এবং স্থানীয় এমপি প্রতিবাদ করলে ও উপজেলা প্রশাসন নীরব । বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার অভিযানের পরও কতিপয় সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে আমিরাবাদ , চরম্বা , কলাউজান , পদুয়া ইউনিয়নে চালাচ্ছে পরিবেশ বিধংসী কার্যক্রম। ডলু ও টংকবতি দুই তীর কেটে এবং ফসলি জমি ধ্বংস করে অব্যাহত বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে ওই এলাকার বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি পুকুরে পরিণত হচ্ছে। এতে ওই এলাকার কৃষকরা চাষের জমি সংকটে পড়ে জীবিকা হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন। পাশাপাশি বসতবাড়িগুলোও মারাত্মক ভাঙন-ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে আমিরাবাদ , চরম্বা, কলাউজান পদুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ও আশপাশের এলাকায় শক্তিশালী সেলো মেশিন ও ড্রেজার ও এস্কেলেটর ব্যবহার করে দিবারাত্রি অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ছড়াখালের তলদেশ অস্বাভাবিকভাবে গভীর করে বালু মাটি তোলা হচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিযোগিতামুলক অবৈধ বালু উত্তোলন কাণ্ডের জেরে বর্তমানে ৫০-৬০ ফুট প্রশস্ত প্রাকৃতিক ছড়াখাল ও পাহাড় এখন কোনো কোনো স্থানে ২০০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে , ওই এলাকার মোর্শেদ আলম মানিক, মো. এমরান ও মাওলানা শহিদুল ইসলামসহ কিছু পাতি নেতাদের কয়েকজনের নেতৃত্বে
একটি সংঘবদ্ধ বালু ও মাটি কেটে সিন্ডিকেট দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা সেলো মেশিন ও এক্সক্লাবভেটর চালিয়ে ফসলি জমি , পাহাড়ের মাটি ও বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন ও ট্রাকযোগে বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে। এতে গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং ধুলাবালির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, এলাকার কেউ
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই মারধর ও এলাকা ছাড়ার ভয় থাকায় প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এমনকি গত ২২ সে মার্চ রাতে পুটিবিল পহরচান্দা এলাকা থেকে একইভাবে সেলো মেশিন বসিয়ে অবৈধ বালু ও পাহাড়ি মাটি উত্তোলন কাণ্ডের দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে পেশাদার তিনজন সাংবাদিকের ওপর হামলা করেছে বালু ও মাটিখেকো ওসমান ভেলিজার শফি নেতৃত্রী একটি চক্রের সদস্যরা। স্থানীয় চিহ্নিত ডাকাত ওসমান ও শফি বালু ও মাটিদুস্যের নেতৃত্বে সাংবাদিকদেরকে প্রাণে হত্যা ও ঘুম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন।
জানা গেছে, পরিবেশ আইন অনুযায়ী ছড়া ও খাল থেকে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ আমিরাবাদ , চরম্বা, কলাউজান , পদুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পাহাড় , ফসলি জমি ও বালু মহলের বালুখেকুরা ইজারা শর্ত ভেঙে ছড়ার তলদেশ ও তীরের কৃষি জমি কেটে নির্বিচারে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন জড়িত বালুখেকো সন্ত্রাসী চক্র।
স্থানীয় আমিরাবাদ , চরম্বা , কলাউজান , পদুয়া ভূমি অফিস সূত্র জানায়, ইজারা পয়েন্টের নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি ইতোমধ্যে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভুমি) এর দপ্তরে জানানো হয়েছে।
এবিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, আমিরাবাদ , চরম্বা,কলাউজান , পদুয়া বিভিন্ন খাল ও ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিষয়টি নজরে এসেছে। গতকালও ওই এলাকা গুলোতে অভিযান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পুনরায় কেউ যদি আশপাশ এলাকার ফসলি জমি,পাহাড়,খালের ছড়া থেকে অবৈধভাবে মাটি, বালু উত্তোলন করে থাকে তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছে, এই সব এলাকায় অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে ড্রেজার ও ডাম্পার এসক্লাবেটর জব্দ করলেও কার্যকর স্থায়ী সমাধান আসছে না। অভিযানের কিছুদিন পরই আবারও একইভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন শুরু করে জড়িত বালুখেকো সন্ত্রাসীরা।
লোহাগাড়া উপজেলার সচেতন মহল বলেন, ছড়াখালের তলদেশ থেকে এভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে ছড়ার গভীরতা এবং প্রশস্ত বেড়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা ও ব্যাপক ভাঙনের ঝুঁকি বাড়বে। আবার কৃষি জমি কেটে বালু লুটের কারণে কমে যাচ্ছে ফসলি জমি। এতে জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তারা দাবি করেন, বালু ও মাটি লুটের মহোৎসব থামাতে
বিচ্ছিন্ন অভিযানের চেয়ে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। এটি সম্ভব না হলে আমিরাবাদ , চরম্বা, কলাউজান, পদুয়ার পাহাড় ফসলি জমি ছড়াখালগুলো পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়বে।