কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নতুন কুঁড়িতে লক্ষণ সেনগুপ্তকে অন্তর্ভুক্ত করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা এই ঘটনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তিকে এমন একটি সংগঠনে জায়গা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতার সূত্রপাত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লক্ষণ সেনগুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি নতুন কুঁড়ি নামক সংগঠনটিতে তাঁর আকস্মিক অন্তর্ভুক্তি স্থানীয় বিএনপির সাধারণ কর্মীদের কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে। নেতাকর্মীদের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলীয় আদর্শ ও অবস্থানের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
এই অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মতে, এর ফলে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীদের মনোবল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য না দেওয়া এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উপেক্ষা করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, এমন অন্তর্ভুক্তির ফলে স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে উলিপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা চলছে। দলের সাধারণ কর্মীদের অনেকেই বিষয়টিকে সহজভাবে নিতে পারছেন না। তারা মনে করছেন, দলের দুঃসময়ে যারা জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তাদের মূল্যায়ন না করে ভিন্ন আদর্শের কাউকে পুনর্বাসন করা হলে সংগঠনে ভুল বার্তা যাবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষোভ দ্রুত নিরসন করা না গেলে উলিপুর বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও প্রকট হতে পারে। এটি কেবল একটি সামাজিক সংগঠনের বিষয় নয়, বরং স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণ বা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লক্ষণ সেনগুপ্তের এই অন্তর্ভুক্তি উলিপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যার সমাধান না হলে তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।