কালিয়াগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন!
সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
Update Time :
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২
Time View
কালিয়াগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন!
সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কালিয়াগঞ্জের রাধিকাপুর সীমান্তের চক সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিহত আসাদুল্লাহ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর বৈরচুনা ইউনিয়নের ইন্দ্রইল গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এলাকাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় সীমান্তপথে অবৈধ যাতায়াতের ঘটনা স্থানীয়ভাবে নতুন নয়। তবে কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলেও তাকে গুলি করে হত্যার যৌক্তিকতা কী ;ঘটনার পর সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফের পাম্প-অ্যাকশন গানের গুলিতে আসাদুল্লাহ নিহত হন। এ সময় আরও দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য পাওয়া গেলে গুলির প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্র তার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাহারা দিতে পারে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আইন প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা নিজে থেকেই কোনো ব্যক্তির জীবন কেড়ে নেওয়ার স্বয়ংক্রিয় বৈধতা তৈরি করে না। জাতিসংঘের ‘Basic Principles on the Use of Force and Firearms by Law Enforcement Officials’-এ বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আগে অহিংস পদ্ধতি প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার কেবল প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক পরিস্থিতিতে হওয়া উচিত। ইচ্ছাকৃত প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার সর্বশেষ পরিস্থিতিতে, জীবন রক্ষার জন্য একান্ত অপরিহার্য হলেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এখানেই কালিয়াগঞ্জের ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নটি তৈরি হয়েছে। আসাদুল্লাহ কি বিএসএফ সদস্যদের ওপর হামলা করেছিলেন? তাঁর হাতে কোনো অস্ত্র ছিল কি না? বিএসএফ সদস্যদের জীবন তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল কি না? তাঁকে আটক করার জন্য গুলি ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর পদ্ধতি ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে বের করা জরুরি। শুধু সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগ থাকলে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অতীতে গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার নথিতেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগের উল্লেখ পাওয়া যায়। ফলে প্রতিটি প্রাণহানির ঘটনা শুধু দুই দেশের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয় নয়; এটি দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পারস্পরিক আস্থা ও মানবাধিকারের প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত। অন্যদিকে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও অপরাধ ঠেকানোর দায়িত্বও বিএসএফের রয়েছে। তাই কোনো পক্ষের বক্তব্য যাচাই না করে ঘটনাটিকে একতরফাভাবে মূল্যায়ন করাও সমীচীন নয়। বিএসএফের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, সিসিটিভি বা অন্যান্য ভিডিও ফুটেজ, ঘটনাস্থলের ফরেনসিক আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং আটক দুই বাংলাদেশির বক্তব্য সবকিছু পর্যালোচনা করেই প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ এবং স্বচ্ছ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়ে থাকলে তাঁর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত। সীমান্ত নিরাপত্তা অবশ্যই রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকারের অংশ। কিন্তু নিরাপত্তার নামে মানুষের জীবনের মূল্য যেন অস্বীকার না হয় এটিও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মৌলিক শিক্ষা। কালিয়াগঞ্জের ঘটনায় তাই অপরাধ বা অনুপ্রবেশের অভিযোগের পাশাপাশি গুলি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা, আনুপাতিকতা ও বৈধতাও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।
3
সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কালিয়াগঞ্জের রাধিকাপুর সীমান্তের চক সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিহত আসাদুল্লাহ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর বৈরচুনা ইউনিয়নের ইন্দ্রইল গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এলাকাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় সীমান্তপথে অবৈধ যাতায়াতের ঘটনা স্থানীয়ভাবে নতুন নয়। তবে কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলেও তাকে গুলি করে হত্যার যৌক্তিকতা কী ;ঘটনার পর সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফের পাম্প-অ্যাকশন গানের গুলিতে আসাদুল্লাহ নিহত হন। এ সময় আরও দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য পাওয়া গেলে গুলির প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্র তার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাহারা দিতে পারে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আইন প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা নিজে থেকেই কোনো ব্যক্তির জীবন কেড়ে নেওয়ার স্বয়ংক্রিয় বৈধতা তৈরি করে না। জাতিসংঘের ‘Basic Principles on the Use of Force and Firearms by Law Enforcement Officials’-এ বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আগে অহিংস পদ্ধতি প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার কেবল প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক পরিস্থিতিতে হওয়া উচিত। ইচ্ছাকৃত প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার সর্বশেষ পরিস্থিতিতে, জীবন রক্ষার জন্য একান্ত অপরিহার্য হলেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
এখানেই কালিয়াগঞ্জের ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নটি তৈরি হয়েছে। আসাদুল্লাহ কি বিএসএফ সদস্যদের ওপর হামলা করেছিলেন? তাঁর হাতে কোনো অস্ত্র ছিল কি না? বিএসএফ সদস্যদের জীবন তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল কি না? তাঁকে আটক করার জন্য গুলি ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর পদ্ধতি ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে বের করা জরুরি। শুধু সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগ থাকলে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অতীতে গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার নথিতেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগের উল্লেখ পাওয়া যায়। ফলে প্রতিটি প্রাণহানির ঘটনা শুধু দুই দেশের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয় নয়; এটি দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পারস্পরিক আস্থা ও মানবাধিকারের প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত।
অন্যদিকে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও অপরাধ ঠেকানোর দায়িত্বও বিএসএফের রয়েছে। তাই কোনো পক্ষের বক্তব্য যাচাই না করে ঘটনাটিকে একতরফাভাবে মূল্যায়ন করাও সমীচীন নয়। বিএসএফের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, সিসিটিভি বা অন্যান্য ভিডিও ফুটেজ, ঘটনাস্থলের ফরেনসিক আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং আটক দুই বাংলাদেশির বক্তব্য সবকিছু পর্যালোচনা করেই প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ এবং স্বচ্ছ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়ে থাকলে তাঁর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।
সীমান্ত নিরাপত্তা অবশ্যই রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকারের অংশ। কিন্তু নিরাপত্তার নামে মানুষের জীবনের মূল্য যেন অস্বীকার না হয় এটিও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মৌলিক শিক্ষা। কালিয়াগঞ্জের ঘটনায় তাই অপরাধ বা অনুপ্রবেশের অভিযোগের পাশাপাশি গুলি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা, আনুপাতিকতা ও বৈধতাও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।