1. mdrouf834@gmail.com : দৈনিকবাংলাদেশপত্রিকা :
  2. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
Title :
চট্টগ্রাম সিএমপি সড়কে বাড়ছে অটোরিকশা ও সিএনজি অথচ ট্রাফিক পুলিশের কোন ভূমিকা নেই বাবার চলে যাওয়ার ৯ বছর, শান্তি রঞ্জন সাহার স্মরণে ছেলের আকুতি কোলা ইউনিয়নের রূপকার চেয়ারম্যান এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম মিন্টু: এই দুই মহামানব ও হুজুরের সুযোগ্য ওয়ারিশদের কারণে এখনো জারি রয়েছে সীরাত মাহফিল চুয়াডাঙ্গায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় নিহত পথচারী নারী, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্ম উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী কুড়িগ্রামের কোদালকাটি ব্রহ্মপুত্রের পেটে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি ও বসতভিটা রাজাপুরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে দিন রাতভর সাজাছে ঠাকুরগাঁও, রাঙিয়ে তোলা হচ্ছে শহর

কুড়িগ্রামের কোদালকাটি ব্রহ্মপুত্রের পেটে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি ও বসতভিটা

আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
  • Update Time : Friday, September 4, 2026,
  • 7 Time View
14

আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২

ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়ন। গত মঙ্গলবার থেকে ইউনিয়নের কোদালকাটি, উত্তর কোদালকাটি, পাইকেনটারী ও বল্লভপাড়া এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে নদীভাঙন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন দিনে শুধু উত্তর কোদালকাটি গ্রামেই অন্তত ১৬টি বসতভিটা নদে বিলীন হয়েছে। একই সময়ে ২০০ বিঘার বেশি আবাদি জমি হারিয়েছেন কৃষকেরা। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও কয়েকশ বিঘা আবাদি জমি ও দুই শতাধিক বসতভিটা।
কোদালকাটি, পাইকেনটারী ও বল্লভপাড়া গ্রামেও একের পর এক ফসলি জমি নদে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনকবলিত অনেক পরিবার বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ আবার ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্য এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

উত্তর কোদালকাটি গ্রামের ভাঙনকবলিত কৃষক মকবুল হোসেন (৬৫) বলেন, ‘আমার বসতভিটা ও তিন বিঘা আবাদি জমি ব্রহ্মপুত্রের পেটে চলে গেছে। এখন পাঁচ বিঘা জমি রয়েছে। সেটিও ভাঙনের ঝুঁকিতে। এই জমিটুকুও নদে চলে গেলে পরিবার নিয়ে একেবারে ভূমিহীন হয়ে যাব।’
তিনি বলেন, ‘কৃষিকাজ করেই সংসার চালাই। জমি না থাকলে কীভাবে বাঁচব, জানি না।’

বল্লভপাড়া গ্রামের কৃষক আকবর আলী (৬০) বলেন, প্রতিবছরই তাদের এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেয়। ‘ব্রহ্মপুত্র আমাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি গিলে খাচ্ছে। এভাবেই প্রতি বছর আমরা নিঃস্ব হচ্ছি,’ তিনি বলেন।
তার অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

কোদালকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের চারদিকই ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত। নৌকা ছাড়া উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াতের সুযোগ নেই। নদীভাঙন, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে এখানকার মানুষকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়।’
তিনি বলেন, কৃষিই ইউনিয়নের মানুষের প্রধান জীবিকা। আবাদি জমিই তাদের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। কিন্তু প্রতিনিয়ত সেই জমি নদে বিলীন হওয়ায় ইউনিয়নের আয়তনও ধীরে ধীরে কমছে।
‘গত কয়েকদিনে ইউনিয়নের চারটি এলাকায় তিন শতাধিক বিঘা আবাদি জমি ব্রহ্মপুত্রের পেটে চলে গেছে। বেশ কয়েকটি বসতভিটাও ভাঙনের শিকার হয়েছে,’ তিনি বলেন।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সামান্য কিছু জিও ব্যাগ দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে এত বড় এলাকায় ভাঙন ঠেকানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

তবে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, কোদালকাটিতে ভাঙন ঠেকাতে তিন দফায় দুই হাজারের বেশি জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কোদালকাটি ইউনিয়নটি নদীর মাঝখানে হওয়ায় সেখানে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ধরনের স্থায়ী প্রকল্পের জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়ারও সুযোগ নেই।’
‘জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে যতটুকু ভাঙন ঠেকানো সম্ভব, আমরা ততটুকুই করার চেষ্টা করছি,’ তিনি বলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2026