মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উপজেলা পর্যায়ের সাঁতার ইভেন্টের উদ্বোধন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও অসহায় মানুষের মাঝে সরকারি সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, এমপি। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা, জিআর চাল, ঢেউটিন, খাদ্যসামগ্রী ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার মাধ্যমে তরুণদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশের পাশাপাশি তাদের শৃঙ্খলাবোধও তৈরি হয়। তৃণমূল পর্যায়ের এমন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও নানা সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া চর্চার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও দরিদ্র পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনরায় চাষাবাদে ফিরিয়ে আনতে কৃষি প্রণোদনা এবং তৃতীয় পর্যায়ের জিআর চাল বিতরণ করা হয়। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক অকাল বন্যায় কুলিয়ারচরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে বিপাকে পড়েন। ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকদের আবারও কৃষিকাজে ফিরিয়ে আনতে সরকারি উদ্যোগে এ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন খন্দকার। তিনি বলেন, দুর্যোগে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধারে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম আরও বলেন, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। কৃষকরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হওয়ায় কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে তাদের দ্রুত পুনর্বাসন জরুরি। সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। সহায়তা পাওয়া কয়েকজন উপকারভোগী জানান, বন্যায় তাদের ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় খাদ্যসামগ্রী, জিআর চাল, ঢেউটিন ও কৃষি প্রণোদনা তাদের ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে তারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মুশফিকুর রহমানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আলী জিন্নাহ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মাসুদ রানা, কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহাবুবা সিদ্দিকী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওয়াসিমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ক্রীড়া সংগঠক, কৃষক, সাংবাদিক ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন সহায়তা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কুলিয়ারচরে ক্রীড়া কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।
18
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উপজেলা পর্যায়ের সাঁতার ইভেন্টের উদ্বোধন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও অসহায় মানুষের মাঝে সরকারি সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, এমপি। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা, জিআর চাল, ঢেউটিন, খাদ্যসামগ্রী ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার মাধ্যমে তরুণদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশের পাশাপাশি তাদের শৃঙ্খলাবোধও তৈরি হয়। তৃণমূল পর্যায়ের এমন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও নানা সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া চর্চার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও দরিদ্র পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনরায় চাষাবাদে ফিরিয়ে আনতে কৃষি প্রণোদনা এবং তৃতীয় পর্যায়ের জিআর চাল বিতরণ করা হয়। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়।
সাম্প্রতিক অকাল বন্যায় কুলিয়ারচরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে বিপাকে পড়েন। ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকদের আবারও কৃষিকাজে ফিরিয়ে আনতে সরকারি উদ্যোগে এ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন খন্দকার। তিনি বলেন, দুর্যোগে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধারে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম আরও বলেন, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। কৃষকরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হওয়ায় কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে তাদের দ্রুত পুনর্বাসন জরুরি। সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
সহায়তা পাওয়া কয়েকজন উপকারভোগী জানান, বন্যায় তাদের ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় খাদ্যসামগ্রী, জিআর চাল, ঢেউটিন ও কৃষি প্রণোদনা তাদের ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে তারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মুশফিকুর রহমানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আলী জিন্নাহ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মাসুদ রানা, কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহাবুবা সিদ্দিকী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওয়াসিমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ক্রীড়া সংগঠক, কৃষক, সাংবাদিক ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন সহায়তা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কুলিয়ারচরে ক্রীড়া কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।