
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও গরুবাহী একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের চালক ও হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা ছয়টি গরুরও মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে উপজেলার সুখিয়া বাজার এলাকায় ব্র্যাক ব্যাংকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুনদাই মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন (৪৫), খুরশেদ (৬০) এবং পিকআপচালক খোকন (৩৯)। তারা সবাই গরুবাহী পিকআপে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী ‘অনন্যা ক্লাসিক’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ থেকে নরসিংদীগামী গরুবাহী তিনটি পিকআপের বহরের প্রথম গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পিকআপে থাকা ছয়টি গরুও মারা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পাকুন্দিয়া ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটকে পড়াদের উদ্ধার করে। দুর্ঘটনায় আহত বাসচালক ও হেলপারকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের এ অংশে প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল করে। ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং অসতর্ক চালনার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময়ই থাকে। তারা সড়কে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাস ও গরুবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানো বা অতিরিক্ত গতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কে নিরাপদ গতি নিশ্চিত, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ যানচালনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নিলেই এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।