
মফস্বল এলাকার অপ্রশস্ত সড়কে দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ বাড়লেও সড়কের প্রস্থ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়েনি। ফলে মুখোমুখি দুটি বাস এলে ঝুঁকি নিয়ে একে অপরকে পাশ কাটাতে হচ্ছে। এমনই এক ঘটনায় দুটি দূরপাল্লার বাস পরস্পরকে অতিক্রম করার সময় একটি বাস সড়কের পাশের খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে মফস্বল এলাকার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন এ পথে স্থানীয় যানবাহনের পাশাপাশি দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন ভারী যান চলাচল করে। কিন্তু সড়কের প্রস্থ তুলনামূলক কম হওয়ায় দুটি বড় যান পাশাপাশি চলাচলের সময় চালকদের বেশ বেগ পেতে হয়। বিশেষ করে সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সামান্য ভুল হলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় দুটি বাস বিপরীত দিক থেকে এসে একই স্থানে মুখোমুখি হয়। একে অপরকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্য উভয় বাসই সড়কের কিনারার দিকে সরে যায়। এ সময় একটি বাসের চাকা সড়কের পাশের নরম মাটিতে চলে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাসটি পাশের খাদে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়ে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দুটি বাস যখন একসঙ্গে পার হচ্ছিল, তখন বোঝাই যাচ্ছিল জায়গা খুব কম। একটি বাসকে প্রায় সড়কের কিনারা ঘেঁষে যেতে হচ্ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসটি কাত হয়ে খাদে পড়ে যায়। ভাগ্য ভালো, বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।”
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “এ সড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল করে, কিন্তু অনেক জায়গায় রাস্তা এতটাই সরু যে দুটি বড় বাস পাশাপাশি গেলে আতঙ্ক তৈরি হয়। চালকেরা বাধ্য হয়ে রাস্তার একেবারে কিনারা দিয়ে যান। বর্ষাকালে রাস্তার পাশের মাটি নরম থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অংশে পর্যাপ্ত প্রশস্ততা নেই। কোথাও কোথাও রাস্তার পাশের মাটি ক্ষয়ে গিয়ে খাদ তৈরি হয়েছে। আবার সড়কের পাশে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, প্রতিরোধক ব্যবস্থা কিংবা দৃশ্যমান সড়কসীমা না থাকায় চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এখানে দুর্ঘটনা ঘটার পর কিছুদিন সবাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু পরে আবার আগের মতোই যানবাহন চলাচল শুরু হয়। স্থায়ীভাবে সড়ক প্রশস্ত করা এবং রাস্তার দুই পাশ নিরাপদ করা না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”