
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।।
বরগুনার আমতলী উপজেলা শহরের চায়ের দোকান, মুদি দোকান, ফলের আড়ত থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার ছোট-বড় প্রায় সব বাজারেই সহজলভ্য সাগর কলা। স্বল্পমূল্য, সহজপ্রাপ্যতা ও পুষ্টিগুণের কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের খাদ্যতালিকায় রয়েছে এ ফল।
নাশতা, আপ্যায়ন কিংবা তাৎক্ষণিক ক্ষুধা নিবারণে প্রতিদিনই অনেক মানুষ কলা কিনছেন। তবে বাজারে আসা এসব কলা কোথায় উৎপাদিত, কী ধরনের সার ও বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়েছে, ফসল তোলার আগে নির্ধারিত অপেক্ষাকাল মানা হয়েছে কি না এবং দ্রুত পাকানোর ক্ষেত্রে অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব তথ্য অধিকাংশ ভোক্তারই অজানা।
এ কারণে প্রশ্ন উঠছে—আমতলীর বাজারে বিক্রি হওয়া সাগর কলা কতটা নিরাপদ?
কলা জাতভেদে আকার, আকৃতি ও ওজনে ভিন্ন হতে পারে। উৎপাদন পদ্ধতি, মাটির উর্বরতা, সেচ, আবহাওয়া ও কৃষি ব্যবস্থাপনাও ফলনের ওপর প্রভাব ফেলে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে রাসায়নিক ব্যবহারের ঝুঁকি নেই। অনুমোদিত বালাইনাশক মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ, ফসল সংগ্রহের আগে নির্ধারিত অপেক্ষাকাল না মানা কিংবা অননুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফলের মধ্যে ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ থাকার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থাপনার নীতিতেও সঠিক মাত্রায় অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা এবং ফসল সংগ্রহের আগে নির্ধারিত সময় মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ক্যালসিয়াম কার্বাইড পানির সংস্পর্শে এলে অ্যাসিটিলিন গ্যাস উৎপন্ন করে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফল পাকানোর কাজে এ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার খাদ্যনিরাপত্তার উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে শিল্পমানের ক্যালসিয়াম কার্বাইডে আর্সেনিক ও ফসফরাসজাত ক্ষতিকর অমিশ্রণ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ফল পাকানোর ক্ষেত্রে অননুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কতা জরুরি।
আমতলী উপজেলা শহরে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ কলা আসে। স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতারা সাধারণত সরবরাহ কারীর কাছ থেকে কলা সংগ্রহ করেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তা জানতে পারেন না
কলা কোন এলাকা থেকে এসেছে;
উৎপাদনে কী ধরনের বালাইনাশক ব্যবহার হয়েছে;
শেষবার কখন বালাইনাশক প্রয়োগ করা হয়েছিল;
ফসল সংগ্রহের আগে নির্ধারিত অপেক্ষাকাল মানা হয়েছিল কি না;
কলা প্রাকৃতিকভাবে নাকি নিয়ন্ত্রিত অনুমোদিত পদ্ধতিতে পাকানো হয়েছে;
কিংবা অননুমোদিত কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে কি না।
ফলে ভোক্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজার পর্যায়ে নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা ও নজরদারি জরুরি।
আমতলীর বাজার থেকে নিয়মিতভাবে কলার নমুনা সংগ্রহ করে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এবং অননুমোদিত পাকানোর রাসায়নিকের ব্যবহার পরীক্ষা করা গেলে জনমনে থাকা প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক উত্তর পাওয়া সম্ভব। আর পরীক্ষার ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে ভোক্তার আস্থা বাড়বে, পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ী বা অনিয়মকারী উৎপাদকদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা: হিমেল পাল, জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) তিনি বলেন, অতিরিক্ত কারবাইড মিশ্রিত ফল খেলে মানুষের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে, মবি,পেট ব্যাথা, ডায়রিয়া, হজমের সমস্যা, মাথা ঘোড়াও দূর্বলতা, গলা বা পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া, শ্বাসকষ্ট তীব্র অস্বস্তি তা বিষক্রিয়ায় স্বাস্থগত লক্ষ্মণ হতে পারে পাশাপাশি দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় কার্বাইডের সংস্পর্শে স্নায়ুতন্ত্রসহ অন্যানো অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
পুষ্টিকর এই ফলটি যেন মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্যের অংশ হয়—এ জন্য উৎপাদন থেকে বাজারজাত করণ ও পাকানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর সরকারি নজরদারি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।