
আনিসুজ্জামান, জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ :
বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা, ট্রলি সংকট ও প্রবাসীদের ভোগান্তির প্রতিবাদ করার পর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে কটিয়াদীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, বিমানবন্দরে যাত্রী ও প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা কোনো অপরাধ হতে পারে না। বরং বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনায় যদি কোনো অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা কিংবা সেবার ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেপ্তার সমস্যার সমাধান নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
ঘটনার আগে বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট ও যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেজর আখতারুজ্জামান। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে ট্রলি সংকটের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রয়োজনীয় ট্রলি কিনে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, বিমানবন্দরে ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে যদি যাত্রীদের মালামাল বহনে সমস্যায় পড়তে হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রলি সংগ্রহ করে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাদের দাবি, জনসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের; কোনো সংকট থাকলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে।
মেজর আখতারুজ্জামানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বিক্ষোভকারীরা বলেন, তিনি মূলত বিমানবন্দরে ভোগান্তির শিকার যাত্রী ও প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলেছেন। তাদের মতে, একজন সাধারণ যাত্রী যেখানে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলেও কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি নিজের কথা তুলে ধরতে পারেন না, সেখানে একজন রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে আখতারুজ্জামান বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন।
গ্রেপ্তারের আগে দেওয়া বক্তব্যে মেজর আখতারুজ্জামান বলেন, “দেশের স্বার্থে এবং প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।”
তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও বলেন, “জনগণের অধিকারের সংগ্রামে আমি আছি, থাকব এবং আজীবন থাকব। যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন জনগণের পাশে থাকব, জনগণের জন্য সংগ্রাম করব।”
এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের দাবি, বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবাদ করার কারণে যদি তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে মামলার সুনির্দিষ্ট কারণ ও অভিযোগ জনসমক্ষে পরিষ্কার করা উচিত।
বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, “প্রতিবাদের কণ্ঠ রোধ নয়, অব্যবস্থাপনার প্রতিকার চাই। হয়রানি নয়, সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি চাই।”
তাদের অভিযোগ, বিমানবন্দরে প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, ট্রলি সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
তবে মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সুনির্দিষ্ট ধারা, গ্রেপ্তারের আইনগত কারণ এবং পুলিশ বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা ও মামলার আইনগত ভিত্তি নির্ধারণের বিষয়টি তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
বিক্ষোভকারীরা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে, সেগুলোর দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো প্রতিবাদকারীকে হয়রানি না করে শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
আনিসুজ্জামান
জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
কার্ড নং ৮১
মোবাইল নাম্বার ০১৬৮৯৮৫৮৪২৭