কুলিয়ারচরে ইউএনওর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের অভিযোগ, বর্জিত হলো মতবিনিময় সভা
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
Update Time :
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
৯
Time View
কুলিয়ারচরে ইউএনওর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের অভিযোগ, বর্জিত হলো মতবিনিময় সভা
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেওয়া এবং সাংবাদিকেরা চলে যাওয়ার পর অন্যদের ছবি তোলার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। একই সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভার নোটিশ দেরিতে পাঠানো এবং নোটিশে আগের তারিখ ব্যবহারের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে ইউএনওর আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা বর্জন করেন কুলিয়ারচরে কর্মরত সাংবাদিকেরা। স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন রোববার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা ইউএনওকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে তাঁর কার্যালয়ে যান। এ সময় ছয়জন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রতিনিধিরা ফুলের তোড়া দেওয়ার সময় ছবি তুলতে চাইলে ইউএনও ছবি তোলায় নিষেধ করেন। এমনকি ছবি তোলা হলে ফুলের তোড়া গ্রহণ করবেন না বলেও জানান বলে সাংবাদিকদের দাবি। পরে সাংবাদিকেরা ছবি না তুলেই ইউএনওর কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান। তবে দুই দিন পর মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএনওকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর একাধিক ছবি প্রকাশিত হয়। সাংবাদিকদের অভিযোগ, তাঁদের উপস্থিতিতে ছবি তুলতে নিষেধ করার পর তাঁরা কার্যালয় ত্যাগ করলে কয়েকটি শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবি তোলা হয়। সাংবাদিকদের দাবি, একই ধরনের ঘটনা ঘটে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির দুই সদস্যের উপস্থিতিতেও। তাঁদের একজন জানান, মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের শিক্ষকরা ইউএনওকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণে ছবি তুলতে নিষেধ করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা শুভেচ্ছা জানাতে গেলেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ভাষ্য, তাঁরা কার্যালয় থেকে বের হওয়ার প্রায় এক মিনিট পর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইউএনওকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে ছবি তোলায় কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। ওই অনুষ্ঠানের ছবিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—একই কার্যালয়ে একই ধরনের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ছবি তুলতে আপত্তি থাকলেও সাংবাদিকেরা চলে যাওয়ার পর কেন ছবি তোলার অনুমতি দেওয়া হলো। বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তাঁরা। এদিকে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভার নোটিশ দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের অভিযোগ, তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই সভার নোটিশ তৈরি করা হয়। নোটিশের অনুলিপি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিবের কাছেও পাঠানো হয়। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উপজেলা পরিষদের কর্মী মো. ওবায়দুল্লাহ সুজনের মোবাইল ফোন থেকে কুলিয়ারচরের সাংবাদিকদের দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নোটিশটি পাঠানো হয়। অথচ নোটিশে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর। নোটিশে স্মারক নম্বর দেওয়া হয়েছে ০৫.৪১,৪৮৫৪,০০০,০০,০৪৮.২৫-৬৪২ (২৫)। সাংবাদিকদের ভাষ্য, সভা শুরুর মাত্র আড়াই ঘণ্টা আগে নোটিশ পাওয়ায় অনেকেই যথাসময়ে বিষয়টি জানতে পারেননি। নোটিশে আগের দিনের তারিখ ব্যবহারের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, নোটিশের তারিখ ও পাঠানোর সময়ের মধ্যে এমন অসংগতি বিভ্রান্তি তৈরি করেছে এবং বিষয়টির প্রশাসনিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন। পরবর্তীতে সাংবাদিকেরা সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং মতবিনিময় সভাটি বর্জন করেন। স্থানীয় সাংবাদিকেরা বলছেন, উপজেলা প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে পেশাগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বচ্ছতা এবং সমান আচরণ থাকা প্রয়োজন। তাঁদের অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন...
15
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেওয়া এবং সাংবাদিকেরা চলে যাওয়ার পর অন্যদের ছবি তোলার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। একই সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভার নোটিশ দেরিতে পাঠানো এবং নোটিশে আগের তারিখ ব্যবহারের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদে ইউএনওর আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা বর্জন করেন কুলিয়ারচরে কর্মরত সাংবাদিকেরা।
স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন রোববার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা ইউএনওকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে তাঁর কার্যালয়ে যান। এ সময় ছয়জন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রতিনিধিরা ফুলের তোড়া দেওয়ার সময় ছবি তুলতে চাইলে ইউএনও ছবি তোলায় নিষেধ করেন। এমনকি ছবি তোলা হলে ফুলের তোড়া গ্রহণ করবেন না বলেও জানান বলে সাংবাদিকদের দাবি।
পরে সাংবাদিকেরা ছবি না তুলেই ইউএনওর কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান। তবে দুই দিন পর মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএনওকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর একাধিক ছবি প্রকাশিত হয়। সাংবাদিকদের অভিযোগ, তাঁদের উপস্থিতিতে ছবি তুলতে নিষেধ করার পর তাঁরা কার্যালয় ত্যাগ করলে কয়েকটি শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবি তোলা হয়।
সাংবাদিকদের দাবি, একই ধরনের ঘটনা ঘটে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির দুই সদস্যের উপস্থিতিতেও। তাঁদের একজন জানান, মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের শিক্ষকরা ইউএনওকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণে ছবি তুলতে নিষেধ করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা শুভেচ্ছা জানাতে গেলেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ভাষ্য, তাঁরা কার্যালয় থেকে বের হওয়ার প্রায় এক মিনিট পর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইউএনওকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে ছবি তোলায় কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। ওই অনুষ্ঠানের ছবিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—একই কার্যালয়ে একই ধরনের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ছবি তুলতে আপত্তি থাকলেও সাংবাদিকেরা চলে যাওয়ার পর কেন ছবি তোলার অনুমতি দেওয়া হলো। বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তাঁরা।
এদিকে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভার নোটিশ দেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই সভার নোটিশ তৈরি করা হয়। নোটিশের অনুলিপি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিবের কাছেও পাঠানো হয়।
স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উপজেলা পরিষদের কর্মী মো. ওবায়দুল্লাহ সুজনের মোবাইল ফোন থেকে কুলিয়ারচরের সাংবাদিকদের দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নোটিশটি পাঠানো হয়। অথচ নোটিশে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর। নোটিশে স্মারক নম্বর দেওয়া হয়েছে ০৫.৪১,৪৮৫৪,০০০,০০,০৪৮.২৫-৬৪২ (২৫)।
সাংবাদিকদের ভাষ্য, সভা শুরুর মাত্র আড়াই ঘণ্টা আগে নোটিশ পাওয়ায় অনেকেই যথাসময়ে বিষয়টি জানতে পারেননি। নোটিশে আগের দিনের তারিখ ব্যবহারের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, নোটিশের তারিখ ও পাঠানোর সময়ের মধ্যে এমন অসংগতি বিভ্রান্তি তৈরি করেছে এবং বিষয়টির প্রশাসনিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
পরবর্তীতে সাংবাদিকেরা সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং মতবিনিময় সভাটি বর্জন করেন।
স্থানীয় সাংবাদিকেরা বলছেন, উপজেলা প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে পেশাগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বচ্ছতা এবং সমান আচরণ থাকা প্রয়োজন। তাঁদের অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।