
কামরুল০১৮৮৩০৮৮০৮৪
ইপিজেড থানার আকমল আলীতে সাহসী চৌকষ ক্যাডেট পুলিশ অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান
আবার ভেঙ্গে দিলো ওসমানের নতুন জুয়ার ঘর।
গত প্রায় ১৫/১৬ বছর যাবত চট্টগ্রাম মহানগরের ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী পকেট গেইট খালপাড় এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পরিত্যক্ত ডোবার উপর টিনের তৈরী বাঁশের খুটির উপর পেশাদার জুয়াড়ী ওসমান (৩২), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- পশ্চিম ‘পট্টি, ফতেপুর, ফতেপুর ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-৪৩৩১, থানা-হাটহাজারী জেলা- চট্টগ্রাম, বর্তমানে-আকমল আলী, পকেট গেট, খালপাড়, থানা- ইপিজেড, চট্টগ্রাম মহানগর কর্তৃক টাকা দিয়ে জুয়া খেলা ও মাদকের আসর বসানোর জন্য একটি ফর নির্মাণ করে। উক্ত ঘরটি গত ০৩/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বেলা ১১.০০ ঘটিকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব প্রনয় চাকমা এর নেতৃত্বে পুলিশের অভিযান টিম ভেঙ্গে দেয়। উক্ত ঘরটি ভেঙ্গে দেয়া এবং তার নামে মামলা নেয়ার পর ওসমান গনি ও তার লোকজন কিছুদিন খেলা বন্ধ রাখে। গত কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানাধীন দক্ষিণ হালিশহর আকমল আলী খালপাড় সিডিএ বালুর মাঠের উত্তর পাশে গহীন আম বাগানের জঙ্গলের ভিতর ওসমান অস্থায়ী, খোলা টং ঘর নির্মান এবং সেখানে নতুন করে জুয়া ও মাদক সেবনের আসর বসাচ্ছে মর্মে গোপন সংবাদ পাওয়া যায়। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে গত ০২/০৯/২০২৬ খ্রিঃ এসআই (নিঃ) আবু বকর এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম উক্ত জুয়ার আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ০৬জন জুয়াড়ী গ্রেফতার এবং জুয়ার আসর থেকে ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩৩,৯০০/-(তেত্রিশ হাজার নয়শত) টাকা উদ্ধার করেন। এ সংক্রান্তে ইপিজেড থানার মামলা নং-০১, তারিখ-০২/০৯/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-জুয়া প্রতিরোধ দমন আইন ২০২৬ এর ১৫/১৮/২৭ রুজু করা হয়েছে। পুলিশ অভিযানের পর জুয়াড়ী ধূর্ত ওসমান গনি ঘটনাস্থলে পুলিশের অভিযান ঠেকাতে যাত্রা পথে বেরিকেড নির্মানসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে থাকেন। সে জুয়া খেলার ঘরে যাওয়ার পথে দুই জায়গায় বাঁশ দিয়ে প্রাচীর নির্মান করে, পথে কাঁটা ফেলে পুলিশি তৎপরতাকে বাঁধাগ্রস্থ করার অপচেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের প্রেক্ষিতে স্থানীয় যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয় হওয়াসহ আশপাশে বসরাসরত নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিলো। উক্ত ঘরে ইপিজেড থানা পুলিশ একাধিকবার অভিযান পরিচালনা ও জুয়ারী/মাদকসেবীদের গ্রেফতার করলেও অভিযানের পর কিছুদিন বিরতি দিয়ে আবার নতুন করে জুয়া খেলা ও অসামাজিক কার্যকলাপের আসর বসানো হতো। উক্ত ঘরটি অপসারণ করার জন্য স্থানীয় লোকজন প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। বার বার অভিযান সত্ত্বেও এহেন অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ না হওয়ায় দূর্গম স্থানে স্থাপিত জুয়ার ঘরটি অপসারণ ছাড়া এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করার বিকল্প কোন উপায় ছিলো না। তাই একটি আবাসিক এলাকায় এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র মহোদয়ের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে মাননীয় মেয়র জনাব ডাঃ শাহাদাত হোসেন এর নির্দেশে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব প্রনয় চাকমা এর নেতৃত্বে ০৭/০৯/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বেলা ১১.৩০ ঘটিকায় জুয়ার ঘরটি অপসারণের জন্য একটি টীম ইপিজেড থানাধীণ আকমল আলী খালপাড় এলাকায় আগমন করেন এবং থানা পুলিশের সহায়তায় জুয়ার ঘরটি উচ্ছেদ করেন। উক্ত কাজে ইপিজেড থানার এসআই (নিঃ) মোঃ মামুনুর রশিদ, এসআই (নিঃ) মোঃ কামরুজ্জামান এবং থানা এলাকায় মোবাইল-৫১ ডিউটিতে নিয়োজিত অফিসার ফোর্স চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী মহোদয়ের টীমকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের নেতৃত্বে জুয়ার ঘরটি সম্পূর্ন অপসারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের উক্ত উদ্যোগকে স্থানীয় জনসাধারন সাধুবাদ জানান এবং জুয়া ও মাদক সেবনের কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী ঘরটি অপসারণের ফলে স্থানীয় এলাকার জনসাধারনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।