কুলিয়ারচরে জনতার হাতে আটক মাদক কারবারি, সিএনজি থেকে উদ্ধার ১৬ কেজি গাঁজা
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
Update Time :
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
৩৭
Time View
কুলিয়ারচরে জনতার হাতে আটক মাদক কারবারি, সিএনজি থেকে উদ্ধার ১৬ কেজি গাঁজা
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের বড়ছয়সূতী চকবাজার এলাকায় জনতার তৎপরতায় বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বড়ছয়সূতী চকবাজার এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ও পথচারী সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সিএনজিটি আটক করে তল্লাশি চালানো হলে এর ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকৃত মাদক, আটক ব্যক্তি এবং সিএনজিটি নিজেদের হেফাজতে নেয়। আটক ব্যক্তির নাম মো. সজিব মিয়া (৩৫) বলে জানা গেছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা গাঁজার মোট পরিমাণ প্রায় ১৬ কেজি। স্থানীয়দের দাবি, উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। সন্দেহজনক একটি সিএনজি এলাকায় প্রবেশ করলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। পরে সাহসিকতার সঙ্গে তারা গাড়িটি আটক করে এবং তল্লাশি চালিয়ে মাদকের চালান উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই অবৈধ ব্যবসা। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বড়ছয়সূতী চকবাজারের এই ঘটনাও তারই একটি বাস্তব উদাহরণ। এলাকাবাসীর মতে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তারা নিয়মিত টহল জোরদার, সন্দেহভাজন যানবাহনে নজরদারি বৃদ্ধি এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত গাঁজা, জব্দ করা সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত করে মাদকের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের প্রবণতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগই মাদকবিরোধী অভিযানের সফলতার অন্যতম প্রধান শর্ত। জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে মাদক পাচার ও ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এদিকে বড়ছয়সূতী চকবাজারে মাদকসহ একজনকে আটকের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এ ঘটনার মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীরা একটি কঠোর বার্তা পাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে নিরুৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে এলাকায় মাদক বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
73
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের বড়ছয়সূতী চকবাজার এলাকায় জনতার তৎপরতায় বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বড়ছয়সূতী চকবাজার এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ও পথচারী সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সিএনজিটি আটক করে তল্লাশি চালানো হলে এর ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকৃত মাদক, আটক ব্যক্তি এবং সিএনজিটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
আটক ব্যক্তির নাম মো. সজিব মিয়া (৩৫) বলে জানা গেছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা গাঁজার মোট পরিমাণ প্রায় ১৬ কেজি। স্থানীয়দের দাবি, উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। সন্দেহজনক একটি সিএনজি এলাকায় প্রবেশ করলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। পরে সাহসিকতার সঙ্গে তারা গাড়িটি আটক করে এবং তল্লাশি চালিয়ে মাদকের চালান উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই অবৈধ ব্যবসা। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বড়ছয়সূতী চকবাজারের এই ঘটনাও তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।
এলাকাবাসীর মতে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তারা নিয়মিত টহল জোরদার, সন্দেহভাজন যানবাহনে নজরদারি বৃদ্ধি এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত গাঁজা, জব্দ করা সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত করে মাদকের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের প্রবণতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগই মাদকবিরোধী অভিযানের সফলতার অন্যতম প্রধান শর্ত। জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে মাদক পাচার ও ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
এদিকে বড়ছয়সূতী চকবাজারে মাদকসহ একজনকে আটকের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এ ঘটনার মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীরা একটি কঠোর বার্তা পাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে নিরুৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে এলাকায় মাদক বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।