
রিপন সরকার
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের জমি ও ভবন নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ‘বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবে”র পক্ষে আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিরোধপূর্ণ জমিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় দ্বিতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া উভয় পক্ষের শুনানি, বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার প্রতিবেদন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এহসান মুরাদের বিজ্ঞ আদালত গত ১৬ আগষ্ট উভয় পক্ষের সামনে এ আদেশ দেন। প্রায় এক বছর আগে মামলাটি দায়ের করা হয়ছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,
১৯৯১ সালে বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদের সাথে স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের জন্য প্রেসক্লাব ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নামে ৬ শতক জমি কেনা হয়েছিলো। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ২০২৪ সালে প্রথম নির্বাচিত কমিটি গঠন করা হয়।নির্বাচনে পরাজিত একটি মহল ‘প্রেসক্লাব বাঞ্ছারামপুর ‘ নামে একটি কমিটি গঠন করে। বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাব ও প্রেসক্লাব বাঞ্ছারামপুর নাম নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়। পরে এটি মামলায় গড়ায়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভিটিঝগড়ারচর মৌজার বিএস গেজেটেড ১৬ নম্বর খতিয়ানের ২৫৮ নম্বর দাগের ৬ শতক জমি নিয়ে বিরোধটি সৃষ্টি হয়। প্রথম পক্ষের দাবি, ওই জমিতে বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের ভবন নির্মাণের কার্যক্রম চলছে এবং দ্বিতীয় পক্ষ সেখানে দখলের চেষ্টা করছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে প্রেস ক্লাবের পক্ষে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর, নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি, বিদ্যুৎ বিল, পৌরকর পরিশোধের কাগজপত্র, নির্মাণসামগ্রী কেনার ভাউচার এবং ভবন নির্মাণে আর্থিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা ২ লাখ ২০ হাজার টাকার চেকের ফটোকপিসহ বিভিন্ন নথি দাখিলের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মোল্লা মো. নাসির আহমেদ বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সম্মানিত সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিতর্কিত জমিতে প্রেস ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে। দ্বিতীয় পক্ষের কর্মকাণ্ডের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
পরে নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত দ্বিতীয় পক্ষকে বিতর্কিত জমিতে এমন কোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা শান্তি ভঙ্গের কারণ হতে পারে।
আদেশের অনুলিপি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ছবি সংযুক্ত ১৯/০৮/২০২৬
০১৭১৪২১৯৮৭৫