ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের, লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের সন্তানকে দেখে ভেঙে পড়লেন পুলিশ সদস্য
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
Update Time :
শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
৫৭
Time View
ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের, লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের সন্তানকে দেখে ভেঙে পড়লেন পুলিশ সদস্য
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্র। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনের জন্য ছুটে যাওয়া এক পুলিশ সদস্য সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, নিহত শিশুটি তার নিজের সন্তান। সন্তানের নিথর দেহ চোখের সামনে দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকায় ঘটে। নিহত শিশুর নাম তুহিন (১০)। সে আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায় হলেও তার বাবা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত থাকায় পরিবারটি কিশোরগঞ্জে বসবাস করছিল। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তুহিন রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া কনস্টেবল সামসুল মিয়াও সেই দলে ছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শিশুর পরিচয় জানতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, এটি তারই একমাত্র ছেলে তুহিন। মুহূর্তেই তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সন্তানের নিথর দেহ বুকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করতে থাকেন তিনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরাও এ দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ট্রাকটি আটকের চেষ্টা চালিয়ে পরে সেটি জব্দ করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে চালক এখনও পলাতক রয়েছেন। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম ভূঞা বলেন, নিহত শিশুর বাবা সামসুল মিয়া থানার একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্য। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে তিনি অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, নিহত শিশুটি তার নিজের ছেলে। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো থানার সদস্যরা শোকাহত। তিনি আরও জানান, নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং পালিয়ে যাওয়া চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনার খবরে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে স্বজন এবং স্থানীয়দের ভিড় জমে। অনেকেই বলেন, সড়কে বেপরোয়া যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। স্থানীয় সচেতন মহলও বলছে, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি, চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং পথচারীদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে। একটি পরিবারের হাসি-আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করার মতো হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা শুধু একজন বাবার নয়, পুরো সমাজের জন্যই গভীর বেদনার বার্তা হয়ে থাকবে।
103
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্র। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনের জন্য ছুটে যাওয়া এক পুলিশ সদস্য সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, নিহত শিশুটি তার নিজের সন্তান। সন্তানের নিথর দেহ চোখের সামনে দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকায় ঘটে।
নিহত শিশুর নাম তুহিন (১০)। সে আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায় হলেও তার বাবা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত থাকায় পরিবারটি কিশোরগঞ্জে বসবাস করছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তুহিন রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া কনস্টেবল সামসুল মিয়াও সেই দলে ছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শিশুর পরিচয় জানতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, এটি তারই একমাত্র ছেলে তুহিন। মুহূর্তেই তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সন্তানের নিথর দেহ বুকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করতে থাকেন তিনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরাও এ দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ট্রাকটি আটকের চেষ্টা চালিয়ে পরে সেটি জব্দ করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে চালক এখনও পলাতক রয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম ভূঞা বলেন, নিহত শিশুর বাবা সামসুল মিয়া থানার একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্য। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে তিনি অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, নিহত শিশুটি তার নিজের ছেলে। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো থানার সদস্যরা শোকাহত।
তিনি আরও জানান, নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং পালিয়ে যাওয়া চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবরে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে স্বজন এবং স্থানীয়দের ভিড় জমে। অনেকেই বলেন, সড়কে বেপরোয়া যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলও বলছে, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি, চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং পথচারীদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
একটি পরিবারের হাসি-আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করার মতো হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা শুধু একজন বাবার নয়, পুরো সমাজের জন্যই গভীর বেদনার বার্তা হয়ে থাকবে।