ফতুল্লার ওসি মাহবুবের বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ, তদন্তে সত্যতা পাওয়ার দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি:
Update Time :
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৮
Time View
ফতুল্লার ওসি মাহবুবের বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ, তদন্তে সত্যতা পাওয়ার দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, বিভিন্ন সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়া এবং ঘুষ-বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলমকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ১১টি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর তদন্তে নামেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রাথমিক তদন্তে অন্তত পাঁচটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। রুবেল হোসেন নামে এক ব্যক্তি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ওসি মাহবুবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে এই লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে উঠে এসেছে ফতুল্লা মডেল থানার আশপাশে সক্রিয় চোরাই তেল সিন্ডিকেট থেকে মাসোয়ারা গ্রহণ, ঘুষের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য এবং থানায় মামলার আপস-মীমাংসার নামে অর্থ আদায়ের বিবরণ। লিখিত অভিযোগে যেসব চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে: * চোরাই তেল সিন্ডিকেট: থানার ৩০০ গজের মধ্যে অবস্থিত মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর পাশের প্রায় ২০টি অবৈধ দোকান থেকে প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ। * বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য: থানার এসআই ও এএসআইদের স্থানান্তরিত হওয়া ঠেকাতে লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ এবং মুন্সি পদে জহির নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বসাতে ১ লাখ টাকা নেওয়ার দাবি। * মাদক ও ধর্ষণ মামলায় ঘুষ: রাসেল নামে এক কথিত মাদক কারবারিকে আটক করে দুই দফায় ৮ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ এবং থানায় ধর্ষণ মামলার বাদীর কাছ থেকে জোরপূর্বক আপসে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ। * অন্যান্য অনিয়ম: নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা সিন্ডিকেট ও ভূমিদস্যুদের থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ। অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসি মাহবুব আলমের বেশ কিছু পুরোনো ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে দেখা গেছে। সম্প্রতি পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে অন্য রাজনৈতিক বলয়ের অনুসারী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এদিকে, ফতুল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় ওসির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান গাফফারি বলেন, "ওসি মাহবুবের আচরণে মনে হয় তিনি নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আগে ছিলেন আওয়ামী ঘনিষ্ঠ, আর এখন বিএনপি প্রমাণে ব্যস্ত। বক্তাবলীতে এনসিপির ওপর হামলার পর তিনি থানায় মামলা নিতেই চাননি। পরে রাত ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ এনসিপি নেতারা থানায় গেলে তিনি মামলা নিতে বাধ্য হন।" জনসভায় গিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের প্রশংসা করা এবং আগাম কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি ঘোষণা করার মতো কর্মকাণ্ডে ওসির নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পেশাদারিত্ব বজায় রেখে অভিযোগগুলোর দ্রুত সুষ্ঠু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সুশীল সমাজ।
25
বিশেষ প্রতিনিধি:
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, বিভিন্ন সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়া এবং ঘুষ-বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলমকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ১১টি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর তদন্তে নামেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রাথমিক তদন্তে অন্তত পাঁচটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
রুবেল হোসেন নামে এক ব্যক্তি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ওসি মাহবুবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে এই লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে উঠে এসেছে ফতুল্লা মডেল থানার আশপাশে সক্রিয় চোরাই তেল সিন্ডিকেট থেকে মাসোয়ারা গ্রহণ, ঘুষের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য এবং থানায় মামলার আপস-মীমাংসার নামে অর্থ আদায়ের বিবরণ।
লিখিত অভিযোগে যেসব চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে:
* চোরাই তেল সিন্ডিকেট: থানার ৩০০ গজের মধ্যে অবস্থিত মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর পাশের প্রায় ২০টি অবৈধ দোকান থেকে প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ।
* বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য: থানার এসআই ও এএসআইদের স্থানান্তরিত হওয়া ঠেকাতে লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ এবং মুন্সি পদে জহির নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বসাতে ১ লাখ টাকা নেওয়ার দাবি।
* মাদক ও ধর্ষণ মামলায় ঘুষ: রাসেল নামে এক কথিত মাদক কারবারিকে আটক করে দুই দফায় ৮ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ এবং থানায় ধর্ষণ মামলার বাদীর কাছ থেকে জোরপূর্বক আপসে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ।
* অন্যান্য অনিয়ম: নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা সিন্ডিকেট ও ভূমিদস্যুদের থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ।
অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসি মাহবুব আলমের বেশ কিছু পুরোনো ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে দেখা গেছে। সম্প্রতি পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে অন্য রাজনৈতিক বলয়ের অনুসারী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এদিকে, ফতুল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় ওসির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান গাফফারি বলেন, “ওসি মাহবুবের আচরণে মনে হয় তিনি নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আগে ছিলেন আওয়ামী ঘনিষ্ঠ, আর এখন বিএনপি প্রমাণে ব্যস্ত। বক্তাবলীতে এনসিপির ওপর হামলার পর তিনি থানায় মামলা নিতেই চাননি। পরে রাত ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ এনসিপি নেতারা থানায় গেলে তিনি মামলা নিতে বাধ্য হন।”
জনসভায় গিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের প্রশংসা করা এবং আগাম কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি ঘোষণা করার মতো কর্মকাণ্ডে ওসির নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পেশাদারিত্ব বজায় রেখে অভিযোগগুলোর দ্রুত সুষ্ঠু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সুশীল সমাজ।