1. mdrouf834@gmail.com : দৈনিকবাংলাদেশপত্রিকা :
  2. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| শুক্রবার| রাত ৪:২২|
Title :
গাইবান্ধা জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে ২,২০০ কেজি জিরানী জব্দ, গ্রেপ্তার ২; মূল হোতা শাহিন পলাতক সাতকানিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, একই দিনে পৃথক দুটি জায়গায় দুই জনের মৃত্যু নকল দুধ তৈরির উপকরণসহ ভাঙ্গুড়ায় আটক ১ এক বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভাঙ্গুড়ায় বড়াল কিন্ডার গার্টেনের কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান আনোয়ারাই বাসের হঠাৎ ব্রেক পিলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ২ নারী নিহত ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট নিরসনে কোন ভূমিকা নেই হাইওয়ে পুলিশের কালিয়াকৈরে ইন্টারনেট লাইনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, দুই হাত হারালেন তরুণ সোহান হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, থানায় অভিযোগ চীনা গণমুক্তি ফৌজের (পিএলএ) ৯৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন: বাংলাদেশ-চীন প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন প্রত্যয় কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র চরাঞ্চলে ভাসমান চিকিৎসা ক্যাম্প ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ নান্দাইলের চন্ডীপাশা ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী সম্মেলন সফল: পরবর্তী সময়ে আহ্বায়ক পদপ্রার্থী বিল্লাল হোসেন নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়।

রাজশাহীতে আমের বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬,
  • 78 Time View
30

মো:গোলাম কিবরিয়া
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীতে গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে থোকা থোকা আম। এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার রাজশাহী অঞ্চলে উৎপাদিত আমের বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ১৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। বর্তমানে বাগান মালিকরা আম উৎপাদনকে ঘিরে বাগানগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
রাজশাহী নগরীর বুলনপুর বসরী এলাকার বাসিন্দা আলম এবারে আম প্রসঙ্গে বলেন, এবার বাগানে প্রচুর আম এসেছে। হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালিসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম গাছে গাছে ভরপুর। কিন্তু ল্যাংড়া আমে হপার পোকার আক্রমণ বেশি। ল্যাংড়া বাদে অন্য প্রজাতির আম বাম্পার ফলন হবে বলে জানান তিনি। গত বছর আমের দাম ভালো ছিল না। এবার আমের ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন। কিন্তু বাম্পার ফলনের কারণে দাম কমও হতে পারে বলে শষ্কায় রয়েছেন।
রাজশাহীতে চৈত্রের শেষভাগে বৃষ্টির পর প্রকৃতি এখন নতুন রূপে সেজে উঠেছে। দেশের ‘আমের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর গাছে গাছে এখন আমের সমারোহ। নতুন মৌসুমের শুরুতেই কৃষকদের মনে জেগেছে সোনালি স্বপ্ন। রোদ-বৃষ্টি মিলিয়ে অনুকূল আবহাওয়ায় আমগাছে গুটি বড় হয়ে কড়ালি আমে পরিণত হয়েছে। সবুজ পাতার ফাঁকে আম সৃষ্টি করেছে নয়নাভিরাম দৃশ্য। ধানের পর এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফসল এখন আম।
চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮ মেট্রিক টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ১৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
এদিকে আম উৎপাদনকে ঘিরে বাগানগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ সেচ দিচ্ছেন, কেউ আবার পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে স্প্রে করছেন। কৃষকদের মতে, ভালো মানের ফলন পেতে তিন মাসে অন্তত ৬ থেকে ৭ বার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়।
রাজশাহী পবা উপজেলার কয়রা গ্রামের কৃষক সিরাজুল হক বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর ফলন ভালো হবে। প্রায় সব গাছেই আম এসেছে, যা সাম্প্রতিক বছরের তুলনায় আশাব্যঞ্জক।
রাজশাহীর পার্শ্ববতী জেলা নওগাঁতে প্রচুর আম এসেছে। নওগাঁ সাপাহার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান টোকি জানান, এবার রোদ ও বৃষ্টির সমন্বয়ে আম চাষের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, ফলে রোগবালাই তুলনামূলক কম। এই ধারা বজায় থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে কিছুটা রোগবালাই বাড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, সাপাহার উপজেলায় ৯ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর—এই চার জেলা নিয়ে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদন অঞ্চল। এখানে আম্রপালি, ক্ষিরসাপাত, হাড়িভাঙ্গা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, কাটিমন, ফজলি ও বারি-৪সহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ করা হয়।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে জার্মানি, ইংল্যান্ড, সুইডেন, ইতালি, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কানাডায় প্রায় ৪০ কোটি ৮৯ লাখ টাকার আম রপ্তানি হয়েছে। প্রতি কেজি আমের গড় মূল্য ছিল ৯৩ টাকা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এই চার জেলায় মোট আম উৎপাদন হয়েছিল ১০ লাখ ২৮ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন। পরবর্তী অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ লাখ ২ হাজার ৯৫ মেট্রিক টনে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮ মেট্রিক টন।
এই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, প্রতি কেজি গড়ে ৯৩ টাকা দরে মোট সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১১ হাজার ১৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের পরিচর্যার কারণে এ বছর আমের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজশাহীর আম মৌসুমকে ঘিরে বিরাজ করছে আশাবাদের সুবাতাস।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026