জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলা : ৭ আসামির যাবজ্জীবন ও ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড:
মোঃ গোলাম সরোয়ার প্রিন্স জামালপুর প্রতিনিধি:
Update Time :
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
২৯
Time View
জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলা : ৭ আসামির যাবজ্জীবন ও ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড:
মোঃ গোলাম সরোয়ার প্রিন্স জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে ২০১৬ সালের মাদারগঞ্জে আলোচিত পূর্ববিরোধের জেরে চাচা-ভাতিজাকে নৃশংসভাবে হত্যা মামলায় ১৪ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন। মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বাসিন্দা মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়া। একই এলাকার বাসিন্দা আসামিদের সঙ্গে পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গানবাজনার কথা বলে সাখাওয়াত ও সোহেল নামে দুই আসামি মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাদের মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি পাটখেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা চাচা-ভাতিজার ওপর হামলা চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ পাটখেতে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর স্বজনরা তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঘটনার তিন দিন পর কুকুরমারী এলাকার ওই পাটখেত থেকে মহর আলী ও স্বপন মিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় নিহত স্বপন মিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় ২২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত ১৪ আসামির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এ রায় দিয়েছেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের এ রায়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
64
মোঃ গোলাম সরোয়ার প্রিন্স
জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরে ২০১৬ সালের মাদারগঞ্জে আলোচিত পূর্ববিরোধের জেরে চাচা-ভাতিজাকে নৃশংসভাবে হত্যা মামলায় ১৪ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন।
মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বাসিন্দা মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়া। একই এলাকার বাসিন্দা আসামিদের সঙ্গে পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গানবাজনার কথা বলে সাখাওয়াত ও সোহেল নামে দুই আসামি মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাদের মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি পাটখেতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা চাচা-ভাতিজার ওপর হামলা চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ পাটখেতে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্বজনরা তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঘটনার তিন দিন পর কুকুরমারী এলাকার ওই পাটখেত থেকে মহর আলী ও স্বপন মিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নিহত স্বপন মিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় ২২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত ১৪ আসামির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এ রায় দিয়েছেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের এ রায়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।