
হুমায়ুন কবির বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা | বুধবার,১৩ মে ২০২৬
পারমাণবিক সুরক্ষাকে কেবল একটি কারিগরি বিষয় হিসেবে না দেখে একে জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের একটি কৌশলগত মেলবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি।
বুধবার (১৩ মে ২০২৬) মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-তে নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক সুরক্ষা:-
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তাঁর “Nuclear Security: National Responsibility Under International Commitment and Its Implications on National Security” শীর্ষক বক্তব্যে পারমাণবিক সুরক্ষার বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন:-
পারমাণবিক স্থাপনা বা প্রযুক্তির সুরক্ষা এখন আর কোনো একক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সন্ত্রাসবাদ ও সাইবার হুমকির এই যুগে পারমাণবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আস্থার অন্যতম শর্ত।”
রূপপুর প্রকল্প ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা:-
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ড. শামছুল ইসলাম জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো কৌশলগত স্থাপনার সুরক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি জাতীয় দায়িত্ববোধ, উচ্চমানের প্রস্তুতি এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি:-
বক্তৃতায় বাংলাদেশে পারমাণবিক সুরক্ষার বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জসমূহ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি কয়েকটি মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন:-
১/ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা:- ভৌত ও সাইবার নিরাপত্তার সমন্বয়।
২/ জরুরি সাড়া প্রদান:- যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক সক্ষমতা অর্জন।
৩/ দক্ষ মানবসম্পদ:- এই খাতের জন্য প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ ও গবেষক তৈরি।
৪/ নীতিমালা ও সমন্বয়:- রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ।
উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে এমআইএসটি-র প্রশংসা:-
বক্তৃতা শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এমআইএসটি-র শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত রোবটিক্স, ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তরুণ গবেষকদের উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন অভিযাত্রায় এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভূমিকা হবে অপরিসীম।”
সমাপনী ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার:-
অনুষ্ঠানে এমআইএসটি-এর কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো: হাকিমুজ্জামান, এসজিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি মূল্যবান সময় প্রদানের জন্য উপদেষ্টাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই দিকনির্দেশনা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পারমাণবিক সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রায়োগিক দিক বুঝতে বিশেষভাবে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা উপস্থিত সকলের সঙ্গে এক ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন।