পীরগঞ্জে কলা চাষে নতুন সম্ভাবনা, আবাদ ছাড়িয়েছে ১২০ একর।
সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
Update Time :
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬,
55 Time View
পীরগঞ্জে কলা চাষে নতুন সম্ভাবনা, আবাদ ছাড়িয়েছে ১২০ একর।
সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কলা চাষ। প্রচলিত ধান, ভুট্টা ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কৃষকেরা এখন বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কম সময়ে ফলন পাওয়া, বাজারে সারা বছর চাহিদা থাকা এবং তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় কলা চাষ কৃষকদের কাছে সম্ভাবনাময় একটি কৃষি উদ্যোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১২০ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষিজমিতে সরেজমিনে দেখা যায়, সারি সারি কলাগাছের সবুজ সমারোহ। অনেক কৃষক পতিত জমি, বসতবাড়ির আশপাশের জমি কিংবা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কলার বাগান গড়ে তুলেছেন। কলাগাছের পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় নতুন অনেক কৃষকও এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। স্থানীয় এক কলাচাষি বলেন, “ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় কলায় নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয় ঠিকই, তবে বাজারে চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাওয়া গেলে লাভও ভালো হয়। এ কারণে প্রতিবছর কলা চাষের জমি বাড়ানোর চিন্তা করছি।” আরেক কৃষক বলেন, “কলা চাষে রোগবালাই দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়। সঠিক সময়ে সার, পানি ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা করা গেলে উৎপাদন ভালো হয়। কৃষি বিভাগের পরামর্শ পেলে চাষিরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন।” কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে বাজারজাতকরণ। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আশপাশের উপজেলা ও জেলার বাজারে কলা সরবরাহ করা হয়। পরিবহনব্যবস্থা ভালো থাকলে উৎপাদিত কলা দ্রুত বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পান। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “পীরগঞ্জে উৎপাদিত কলার চাহিদা রয়েছে। মৌসুম ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দাম ওঠানামা করে। কৃষকেরা যদি দলবদ্ধভাবে কলা বাজারজাত করতে পারেন, তাহলে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমবে এবং তারা ভালো দাম পেতে পারেন।” উপজেলা কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাষ্য, কলা একটি অর্থকরী ফসল। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাত, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কলার উৎপাদন ও গুণগত মান আরও বাড়ানো সম্ভব। কৃষকদের কলা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পীরগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া কলা চাষের জন্য অনেকাংশে উপযোগী। তবে অপরিকল্পিতভাবে জমিতে কলা চাষ সম্প্রসারণ না করে মাটির গুণাগুণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সচেতন নাগরিকদের মতে, কলা চাষ শুধু কৃষকের আয় বাড়ানোর মাধ্যম নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। উৎপাদন, পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা বিক্রির সঙ্গে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়। তাই কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মানসম্মত চারা সরবরাহ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে পীরগঞ্জে কলা চাষ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। ১২০ একরের বর্তমান আবাদ ভবিষ্যতে আরও বাড়িয়ে কৃষকের আয় ও স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রয়েছে।
71
সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কলা চাষ। প্রচলিত ধান, ভুট্টা ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কৃষকেরা এখন বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কম সময়ে ফলন পাওয়া, বাজারে সারা বছর চাহিদা থাকা এবং তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় কলা চাষ কৃষকদের কাছে সম্ভাবনাময় একটি কৃষি উদ্যোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১২০ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষিজমিতে সরেজমিনে দেখা যায়, সারি সারি কলাগাছের সবুজ সমারোহ। অনেক কৃষক পতিত জমি, বসতবাড়ির আশপাশের জমি কিংবা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কলার বাগান গড়ে তুলেছেন। কলাগাছের পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় নতুন অনেক কৃষকও এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
স্থানীয় এক কলাচাষি বলেন, “ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় কলায় নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয় ঠিকই, তবে বাজারে চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাওয়া গেলে লাভও ভালো হয়। এ কারণে প্রতিবছর কলা চাষের জমি বাড়ানোর চিন্তা করছি।”
আরেক কৃষক বলেন, “কলা চাষে রোগবালাই দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়। সঠিক সময়ে সার, পানি ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা করা গেলে উৎপাদন ভালো হয়। কৃষি বিভাগের পরামর্শ পেলে চাষিরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন।”
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে বাজারজাতকরণ। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আশপাশের উপজেলা ও জেলার বাজারে কলা সরবরাহ করা হয়। পরিবহনব্যবস্থা ভালো থাকলে উৎপাদিত কলা দ্রুত বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পান।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “পীরগঞ্জে উৎপাদিত কলার চাহিদা রয়েছে। মৌসুম ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দাম ওঠানামা করে। কৃষকেরা যদি দলবদ্ধভাবে কলা বাজারজাত করতে পারেন, তাহলে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমবে এবং তারা ভালো দাম পেতে পারেন।”
উপজেলা কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাষ্য, কলা একটি অর্থকরী ফসল। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাত, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কলার উৎপাদন ও গুণগত মান আরও বাড়ানো সম্ভব। কৃষকদের কলা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পীরগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া কলা চাষের জন্য অনেকাংশে উপযোগী। তবে অপরিকল্পিতভাবে জমিতে কলা চাষ সম্প্রসারণ না করে মাটির গুণাগুণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
সচেতন নাগরিকদের মতে, কলা চাষ শুধু কৃষকের আয় বাড়ানোর মাধ্যম নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। উৎপাদন, পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা বিক্রির সঙ্গে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়।
তাই কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মানসম্মত চারা সরবরাহ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে পীরগঞ্জে কলা চাষ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। ১২০ একরের বর্তমান আবাদ ভবিষ্যতে আরও বাড়িয়ে কৃষকের আয় ও স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রয়েছে।