সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকে ধ্বংস করে না; এর প্রভাব পড়ে পরিবার, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক সামাজিক পরিবেশে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গোপনে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ নানা ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্যের দিকে ঝুঁকে পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু অভিযান চালিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদকের সরবরাহ বন্ধ করার পাশাপাশি চাহিদা কমানো, তরুণদের কর্মসংস্থান ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি বাড়ানো জরুরি। পীরগঞ্জের এক সচেতন নাগরিক বলেন, “মাদক এখন শুধু অপরাধের বিষয় নয়, এটি সামাজিক সংকট। একজন তরুণ মাদকে জড়িয়ে পড়লে তার সঙ্গে একটি পরিবারও বিপর্যস্ত হয়। তাই মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।” আরেক অভিভাবক বলেন, “সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং অবসর সময়ে কী করছে—এসব বিষয়ে পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু সন্তানকে শাসন করলেই হবে না, তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও গড়ে তুলতে হবে।” স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিযানের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার মূল উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের অপরাধী হিসেবে একমাত্র বিবেচনা না করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে রাজনৈতিক বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব, দলীয় পরিচয় কিংবা ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়া নিয়ে যদি মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে আইন প্রয়োগের প্রতি আস্থা দুর্বল হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ তোলা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। বরং রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে দাবি হওয়া উচিত মাদকবিরোধী অভিযান যেন দলমত নির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়। একজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী বলেন, “মাদক কোনো দলের সমস্যা নয়, এটি পুরো সমাজের সমস্যা। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া এবং নিজেদের কর্মী-সমর্থকদেরও এ বিষয়ে জবাবদিহির মধ্যে রাখা।” আরেকজন সমাজকর্মীর ভাষ্য, “মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাংবাদিক—সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পক্ষের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।” বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, পাঠাগার, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা প্রয়োজন। পীরগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে হলে তাই শুধু ‘অভিযান’ নয়, প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ। কোথায় মাদক বিক্রি হচ্ছে এমন তথ্য থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এই তিনটি দিককে গুরুত্ব দিতে হবে। মাদকমুক্ত পীরগঞ্জ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। এটি পরিবার, সমাজ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্মিলিত দায়িত্ব। এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আজকের ছোট সমস্যা আগামী দিনের বড় সামাজিক বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।
17
সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকে ধ্বংস করে না; এর প্রভাব পড়ে পরিবার, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক সামাজিক পরিবেশে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গোপনে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ নানা ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্যের দিকে ঝুঁকে পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু অভিযান চালিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদকের সরবরাহ বন্ধ করার পাশাপাশি চাহিদা কমানো, তরুণদের কর্মসংস্থান ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
পীরগঞ্জের এক সচেতন নাগরিক বলেন, “মাদক এখন শুধু অপরাধের বিষয় নয়, এটি সামাজিক সংকট। একজন তরুণ মাদকে জড়িয়ে পড়লে তার সঙ্গে একটি পরিবারও বিপর্যস্ত হয়। তাই মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।”
আরেক অভিভাবক বলেন, “সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং অবসর সময়ে কী করছে—এসব বিষয়ে পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু সন্তানকে শাসন করলেই হবে না, তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও গড়ে তুলতে হবে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিযানের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার মূল উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের অপরাধী হিসেবে একমাত্র বিবেচনা না করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমে রাজনৈতিক বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব, দলীয় পরিচয় কিংবা ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়া নিয়ে যদি মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে আইন প্রয়োগের প্রতি আস্থা দুর্বল হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ তোলা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। বরং রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে দাবি হওয়া উচিত মাদকবিরোধী অভিযান যেন দলমত নির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়।
একজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী বলেন, “মাদক কোনো দলের সমস্যা নয়, এটি পুরো সমাজের সমস্যা। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া এবং নিজেদের কর্মী-সমর্থকদেরও এ বিষয়ে জবাবদিহির মধ্যে রাখা।”
আরেকজন সমাজকর্মীর ভাষ্য, “মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাংবাদিক—সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পক্ষের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, পাঠাগার, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা প্রয়োজন।
পীরগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে হলে তাই শুধু ‘অভিযান’ নয়, প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ। কোথায় মাদক বিক্রি হচ্ছে এমন তথ্য থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এই তিনটি দিককে গুরুত্ব দিতে হবে।
মাদকমুক্ত পীরগঞ্জ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। এটি পরিবার, সমাজ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্মিলিত দায়িত্ব। এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আজকের ছোট সমস্যা আগামী দিনের বড় সামাজিক বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।