সাকিব আহসান, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও বর্ষা এলেই ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের বিলজুড়ে ফুটে ওঠে সারি সারি পদ্মফুল। গোলাপি ও সাদা পদ্মের অপূর্ব সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিলের পদ্মফুলের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় দর্শনার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। তবে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য দেখতে গিয়ে অনেক পর্যটকের অসচেতন কর্মকাণ্ডে বিলের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দর্শনার্থীদের একটি অংশ পদ্মফুল ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ছবি তোলার জন্য বিলের পানিতে নেমে পদ্মগাছ মাড়িয়ে দিচ্ছেন। আবার অনেকে খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্য বিলের পানিতে ও আশপাশে ফেলে যাচ্ছেন। এতে পদ্মবিলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, “পদ্মফুল দেখতে মানুষ আসায় আমাদের ভালোই লাগে। কিন্তু কিছু মানুষ ফুল ছিঁড়ে নেয় এবং পানিতে নেমে গাছ নষ্ট করে। অনেকে আবার ময়লা-আবর্জনা ফেলে চলে যায়। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বিলের সৌন্দর্যই নষ্ট হয়ে যাবে।” আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রওশন আরা বলেন, “আগে বিলটি অনেক শান্ত ছিল। এখন ছুটির দিনসহ প্রতিদিনই মানুষ আসে। সবাই সচেতন হলে কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু কিছু দর্শনার্থী শুধু ছবি তোলা আর আনন্দ করার জন্য পদ্মগাছের ক্ষতি করছেন।” পরিবেশকর্মীদের মতে, একটি বিল কেবল পদ্মফুল দেখার স্থান নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জলজ প্রতিবেশ। পদ্ম ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ সেখানে মাছ, ব্যাঙ, পোকামাকড়সহ বিভিন্ন প্রাণীর আশ্রয় ও খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে। এসব উদ্ভিদ নির্বিচারে নষ্ট হলে জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক ও পলিথিন পানিতে জমলে পানির গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয় পরিবেশকর্মী মিজানুর রহমান বলেন, “প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা মানুষের অধিকার। কিন্তু সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে প্রকৃতির ক্ষতি করা যাবে না। জাবরহাটের বিলকে ঘিরে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা চালু করা দরকার। নির্দিষ্ট জায়গা থেকে পদ্ম দেখার ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটকদের জন্য সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা যেতে পারে।” দর্শনার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “পদ্মফুলের সৌন্দর্য দেখতে এসে কেউ যেন ফুল বা গাছ নষ্ট না করেন, সেটি আমাদের সবার দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি তোলার প্রতিযোগিতায় প্রকৃতির ক্ষতি করা কোনোভাবেই উচিত নয়।” স্থানীয়দের দাবি, বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের সচেতন করতে বিলের প্রবেশপথে নির্দেশনা, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা যেতে পারে। জাবরহাটের পদ্মবিল পীরগঞ্জের সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক আকর্ষণ। পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি স্থানীয় পর্যটনের বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেই পর্যটন হতে হবে প্রকৃতিবান্ধব। কারণ যে পদ্মফুলের সৌন্দর্য মানুষকে জাবরহাটে টেনে আনছে, সেই পদ্ম ও বিলের প্রতিবেশই যদি পর্যটকদের অসচেতনতায় ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেখানে দেখার মতো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
33
সাকিব আহসান, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
বর্ষা এলেই ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের বিলজুড়ে ফুটে ওঠে সারি সারি পদ্মফুল। গোলাপি ও সাদা পদ্মের অপূর্ব সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিলের পদ্মফুলের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় দর্শনার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। তবে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য দেখতে গিয়ে অনেক পর্যটকের অসচেতন কর্মকাণ্ডে বিলের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দর্শনার্থীদের একটি অংশ পদ্মফুল ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ছবি তোলার জন্য বিলের পানিতে নেমে পদ্মগাছ মাড়িয়ে দিচ্ছেন। আবার অনেকে খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্য বিলের পানিতে ও আশপাশে ফেলে যাচ্ছেন। এতে পদ্মবিলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, “পদ্মফুল দেখতে মানুষ আসায় আমাদের ভালোই লাগে। কিন্তু কিছু মানুষ ফুল ছিঁড়ে নেয় এবং পানিতে নেমে গাছ নষ্ট করে। অনেকে আবার ময়লা-আবর্জনা ফেলে চলে যায়। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বিলের সৌন্দর্যই নষ্ট হয়ে যাবে।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রওশন আরা বলেন, “আগে বিলটি অনেক শান্ত ছিল। এখন ছুটির দিনসহ প্রতিদিনই মানুষ আসে। সবাই সচেতন হলে কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু কিছু দর্শনার্থী শুধু ছবি তোলা আর আনন্দ করার জন্য পদ্মগাছের ক্ষতি করছেন।”
পরিবেশকর্মীদের মতে, একটি বিল কেবল পদ্মফুল দেখার স্থান নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জলজ প্রতিবেশ। পদ্ম ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ সেখানে মাছ, ব্যাঙ, পোকামাকড়সহ বিভিন্ন প্রাণীর আশ্রয় ও খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে। এসব উদ্ভিদ নির্বিচারে নষ্ট হলে জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক ও পলিথিন পানিতে জমলে পানির গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী মিজানুর রহমান বলেন, “প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা মানুষের অধিকার। কিন্তু সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে প্রকৃতির ক্ষতি করা যাবে না। জাবরহাটের বিলকে ঘিরে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা চালু করা দরকার। নির্দিষ্ট জায়গা থেকে পদ্ম দেখার ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটকদের জন্য সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা যেতে পারে।”
দর্শনার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “পদ্মফুলের সৌন্দর্য দেখতে এসে কেউ যেন ফুল বা গাছ নষ্ট না করেন, সেটি আমাদের সবার দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি তোলার প্রতিযোগিতায় প্রকৃতির ক্ষতি করা কোনোভাবেই উচিত নয়।”
স্থানীয়দের দাবি, বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের সচেতন করতে বিলের প্রবেশপথে নির্দেশনা, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা যেতে পারে।
জাবরহাটের পদ্মবিল পীরগঞ্জের সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক আকর্ষণ। পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি স্থানীয় পর্যটনের বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেই পর্যটন হতে হবে প্রকৃতিবান্ধব। কারণ যে পদ্মফুলের সৌন্দর্য মানুষকে জাবরহাটে টেনে আনছে, সেই পদ্ম ও বিলের প্রতিবেশই যদি পর্যটকদের অসচেতনতায় ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেখানে দেখার মতো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।