
শফিকুল বারী সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি।
পুলিশ মানেই আতঙ্ক নয়, পুলিশ যে জনগনের প্রকৃত বন্ধু—তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ, পিপিএম। তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর এলাকায় সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রশংসিত হচ্ছে।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, ন্যায়ের পক্ষে বন্ধু
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওসি রতন শেখ প্রমাণ করেছেন যে, অপরাধ দমনে তিনি যেমন কঠোর, অসহায় মানুষের জন্য তেমনি নরম মনের অধিকারী। যেখানেই অপরাধ বা ঝগড়াঝাটির খবর পান, সেখানেই তিনি নিজে ছুটে যান,অনেক জটিল বিষয় যা আদালত পর্যন্ত গড়ালে সাধারণ মানুষের অর্থ ও সময় নষ্ট হতো, তিনি তা নিজ উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দিচ্ছেন।
সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ দিতে কোনো অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয় না।
ওসি রতন শেখ থানায় আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগগুলো অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে শোনেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এমনকি গরীব-অসহায় মানুষের তুচ্ছ বিষয়গুলোকেও (যেমন ছাগল বা হাঁস-মুরগি নিয়ে বিরোধ) তিনি সমান গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করেন, যা সচরাচর দেখা যায় না।
ফেসবুকে ভাইরাল সেই আবেগঘন মুহূর্ত
সম্প্রতি একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এক নেশাখোর ছেলে তার অসহায় মায়ের দোকান ভাঙচুর করলে খবর পেয়ে ওসি রতন শেখ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি যখন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে উদ্যত হন, তখন সন্তানের প্রতি মায়ের সেই চিরন্তন মমতা জেগে ওঠে। মা আকুতি করে বলেন, “স্যার, আমার ছেলেকে নিয়েন না।”
মায়ের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখে ওসি রতন শেখ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখেন— “মা তো মা-ই, তাঁর কোনো তুলনা হয় না।” তাঁর এই সংবেদনশীলতা এবং মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিষয়টি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ইতিহাসে এমন জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশ অফিসার আগে খুব একটা দেখা যায়নি। অপরাধ দমনের পাশাপাশি তিনি যেভাবে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছেন, তা সমগ্র পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ওসি রতন শেখের মতো অফিসাররাই বদলে দিতে পারেন আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রকে।