
কামরুল০১৮৮৩০৮৮০৮৪
চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী এলাকায় একটি জুয়ার আস্তানায় অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইপিজেড থানার সুদক্ষ সাহসী চৌকষ পুলিশ অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ আতিকুর রহমান । এ সময় জুয়াড়িদের কাছ থেকে বিভিন্ন রঙের ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। ওসি মোঃ আতিকুর রহমানের এই অভিযানের সময় জুয়ার আস্তানার আরও কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে যায়।
ইপিজেড থানার সাহসী চৌকষ ক্যাডেট পুলিশ অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আতীকুর রহমান, বিপিএম-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে। তিনি জানান দক্ষিণ হালিশহর আকমল আলী খালপাড় সিডিএ বালুর মাঠসংলগ্ন আমবাগান এলাকায় স্থানীয়ভাবে পরিচিত জুয়াড়ি ওসমান গনির নির্মিত একটি অস্থায়ী টংঘরে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর বসানো হচ্ছিল। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. সাদ্দাম (৩৫), বাসুদেব (৩৫), আবদুল মজিদ (৪০), মো. আরিফ (২৮), মো. আনোয়ার হোসেন (৪৬) এবং মো. সাইদ হোসেন শাকিল (২৬)। তাদের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।
ওসি আতিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসরে থাকা আরও ৮ থেকে ১০ জন সহযোগী পালিয়ে যায়। জুয়া খেলার জন্য ব্যবহৃত অস্থায়ী টংঘরটি বাঁশ ও ত্রিপাল দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। ওই ঘরটি স্থানীয় জুয়াড়ি ওসমান গনি নির্মাণ করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, এর আগে একই ব্যক্তি আকমল আলী পকেট গেট-সংলগ্ন খালপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার ঘর পরিচালনা করছিলেন। প্রায় তিন-চার মাস আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ওই জুয়ার ঘরটি ভেঙে দেয়। এরপর ওসমান গনি আবারও গভীর আমবাগানের ভেতরে নতুন করে জুয়ার ঘর নির্মাণ করে জুয়ার আসর বসান বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযানে জুয়া খেলার বোর্ড থেকে বিভিন্ন রঙের ১৫ প্যাকেট তাস এবং নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য:
ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতীকুর রহমান, বিপিএম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জুয়া খেলার সরঞ্জাম, তাস ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক জুয়াড়ি ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জন এবং পলাতক সহযোগী ওসমান গনিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে ইপিজেড থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয় এবং জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৫/১৮/২৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিধি অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।