
কামরুল০১৮৮৩০৮৮০৮৪
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কর্তৃক রাতের আঁধারে নির্বিচারে পাহাড় কেটে নিয়ে যাচ্ছে এই বিষয়ে এলাকার সচেতন মহল প্রতিবাদ করলে ও স্থানীয় প্রশাসনের নিরব প্রশাসনের নিরবতা দেখে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা স্থানীয়দের মধ্যে।আরো জানাযায়, মাটি ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ও ছৈয়দ মেম্বারের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৬ নাম্বর ওয়ার্ডের জান মোহাম্মদ পাড়া ও বিভিন্ন স্থানে পাহাড় গুলোর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কেটে সমতলে পরিনত করে ফেলেছে। এতে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়রা জানান, ‘মাটিখেকো সিন্ডিকেট’ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, মাটি বিক্রির সাথে জড়িত। তবে ভয়ে মুখ খোলার সাহস পাননা অনেকেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গেল সপ্তাহখানিক পুর্বে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৬নাম্বর ওয়ার্ডের জান মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় মোঃ আনোয়ার ও ছৈয়দ মেম্বারের নেতৃত্ব আরও কয়েকজন মিলে সবুজে আচ্ছাদিত বিশাল আকৃতির কয়েকটি পাহাড়ের বড় অংশ কেটে সমতল করে ফেলা হয়েছে। কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়ার পরে কাজ বন্ধ করে রাখে। পাহাড়ের মাটি গুলো ট্রাকভর্তি বিক্রি করে ফেলেছে। পাহাড় গুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। পাহাড় গুলো কেটে ফেলার কারণে পার্শ্ববর্তি কয়েকটি বসতঘর হুমকির মুখে রয়েছে। ভারি বৃষ্টি হলেই পার্শ্বের ঘরগুলো বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ আহমদের স্ত্রী আছিয়া খাঁতুন বলেন, পাহাড় টির পার্শ্বে তার বসতঘর। পাহাড় কাটার কারণে ভারি বৃষ্টি হলেই তার বসতঘর বিলীন হয়ে যাবে। কিছুদিন ধরে রাতের আঁধারে স্কেভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে ডাম্পার ট্রাকে করে সেই মাটি বিভিন্ন ইটভাটা, ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ আনোয়ার হোসেন পাহাড় কাটার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এলাকার বাসিন্দা সোহেলের কাছ থেকে পাহাড়ের মাটি কিনেছি। প্রতি ডাম্পার ভর্তি অনুসারে পাহাড়ের মাটিগুলো তার কাছ থেকে কিনে নিয়েছি। তাও একদিন পাহাড়ের মাটি কিনে কেটেছি। একদিনের পরে আর মাটি কাটিনি। বাকি পাহাড়ের মাটি গুলো অন্য কেউ কাটতে পারে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেলের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে , তার চাচি আনোয়ারা বেগম বলেন, আমাদের পরিবারের সদস্য বেশি হওয়ায় বাড়ি করতে হচ্ছে।তাই পাহাড়টি কাটা হয়েছে।আমার বাশুরি পুত মমতাজ কিছু জায়গা ভরাট করেছে। আমাদের বাড়ি করতে বিধায় পাহাড় টি কাটা হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, পাহাড় কাটা সম্পুর্ণ অন্যায় ও অপরাধ। পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো. বায়োজিদ-বিন-আখন্দ বলেন, বিষয়টি জেনেছি। পাহাড় কাটা সম্পুর্ণ অপরাধ। পাহাড় কেটে যারা সাবাড় করেছে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।