কুল্পীর তিন বিদ্যালয়ে সচেতনতার পাঠ, ঋতুচক্র থেকে বাল্যবিবাহ—ছাত্রীদের সচেতন করতে বিশেষ শিবির*
Reporter Name
Update Time :
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২৬
Time View
কুল্পীর তিন বিদ্যালয়ে সচেতনতার পাঠ, ঋতুচক্র থেকে বাল্যবিবাহ—ছাত্রীদের সচেতন করতে বিশেষ শিবির*
* *বাইজিদ মন্ডল দক্ষিন চব্বিশ পরগনা:-* শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, স্বাস্থ্য, অধিকার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কেও সচেতন হওয়া জরুরি। সেই লক্ষ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুল্পী ব্লকের তিনটি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিয়ে আয়োজিত হল বিশেষ সচেতনতা শিবির। ঋতুচক্র ও মাসিক স্বাস্থ্যবিধির পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও নারী পাচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়েও ছাত্রীদের সচেতন করা হয়। ৭, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬—পরপর তিন দিন করঞ্জলি বালিকা বিদ্যালয়, গাজিরমহল জি.সি. হাই স্কুল এবং নিউ ইন্টিগ্রেটেড গভর্নমেন্ট স্কুলে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্যাম্পান চ্যারিটেবল ট্রাস্টের উদ্যোগ ও পরিচালনায় এবং সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিসেস (বোধিপীঠ পাঠাগার)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই সচেতনতা কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ‘প্যাডম্যান অফ কলকাতা’ হিসেবে পরিচিত সমাজকর্মী শোভন মুখার্জী। শিবিরে ছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে ঋতুচক্র চলাকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা এবং বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলার উপায় সম্পর্কে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, নারী পাচারের কারণ ও তার ভয়াবহ পরিণতি এবং এই ধরনের সামাজিক অপরাধ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার বিভিন্ন উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। তাঁদের বক্তব্য, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ও ঋতুচক্র সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও নারী পাচারের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধেও সচেতন হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। বিদ্যালয়গুলির প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকারাও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, একবারের পরিবর্তে নিয়মিতভাবে, বছরে অন্তত দু’বার এই ধরনের সচেতনতা শিবির আয়োজন করা হলে ছাত্রীদের আত্মবিশ্বাস ও সচেতনতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নিজেদের অধিকার সম্পর্কেও তাঁরা আরও স্পষ্ট ধারণা পাবে। স্যাম্পান চ্যারিটেবল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শোভন মুখার্জী জানান, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে তাঁরা নিয়মিত সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি করে থাকেন। আর্থিকভাবে দুর্বল ছাত্রী ও মায়েদের বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনায় সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতের পথচলার ক্ষেত্রে দিশা দেখানোর কাজও করা হয়। অন্যদিকে, বোধিপীঠ পাঠাগারের সম্পাদক শুভেন্দু বোস জানান, ভ্রাম্যমাণ বোধিপীঠ পাঠাগার পরিচালনার পাশাপাশি স্যাম্পান চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সহযোগিতায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা, মূল্যবোধের শিক্ষা, কুইজ, মেধা অন্বেষণ পরীক্ষার মতো বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সামাজিক কর্মসূচিও এর অন্তর্ভুক্ত। আয়োজকদের মতে, বইয়ের পাতার শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য, অধিকার, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। আগামী দিনে কুল্পী ব্লকের গণ্ডি ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের আরও বিভিন্ন এলাকার বিদ্যালয়ে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সচেতন কিশোরীরাই গড়বে নিরাপদ সমাজ। বাল্যবিবাহ ও নারী পাচারের বিরুদ্ধে আজকের সচেতনতাই হোক আগামী দিনের শক্তি।
46
*
*বাইজিদ মন্ডল দক্ষিন চব্বিশ পরগনা:-* শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, স্বাস্থ্য, অধিকার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কেও সচেতন হওয়া জরুরি। সেই লক্ষ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুল্পী ব্লকের তিনটি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিয়ে আয়োজিত হল বিশেষ সচেতনতা শিবির। ঋতুচক্র ও মাসিক স্বাস্থ্যবিধির পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও নারী পাচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়েও ছাত্রীদের সচেতন করা হয়।
৭, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬—পরপর তিন দিন করঞ্জলি বালিকা বিদ্যালয়, গাজিরমহল জি.সি. হাই স্কুল এবং নিউ ইন্টিগ্রেটেড গভর্নমেন্ট স্কুলে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
স্যাম্পান চ্যারিটেবল ট্রাস্টের উদ্যোগ ও পরিচালনায় এবং সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিসেস (বোধিপীঠ পাঠাগার)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই সচেতনতা কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ‘প্যাডম্যান অফ কলকাতা’ হিসেবে পরিচিত সমাজকর্মী শোভন মুখার্জী।
শিবিরে ছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে ঋতুচক্র চলাকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা এবং বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলার উপায় সম্পর্কে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, নারী পাচারের কারণ ও তার ভয়াবহ পরিণতি এবং এই ধরনের সামাজিক অপরাধ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার বিভিন্ন উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।
ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। তাঁদের বক্তব্য, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ও ঋতুচক্র সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও নারী পাচারের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধেও সচেতন হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা।
বিদ্যালয়গুলির প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকারাও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, একবারের পরিবর্তে নিয়মিতভাবে, বছরে অন্তত দু’বার এই ধরনের সচেতনতা শিবির আয়োজন করা হলে ছাত্রীদের আত্মবিশ্বাস ও সচেতনতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নিজেদের অধিকার সম্পর্কেও তাঁরা আরও স্পষ্ট ধারণা পাবে।
স্যাম্পান চ্যারিটেবল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শোভন মুখার্জী জানান, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে তাঁরা নিয়মিত সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি করে থাকেন। আর্থিকভাবে দুর্বল ছাত্রী ও মায়েদের বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনায় সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতের পথচলার ক্ষেত্রে দিশা দেখানোর কাজও করা হয়।
অন্যদিকে, বোধিপীঠ পাঠাগারের সম্পাদক শুভেন্দু বোস জানান, ভ্রাম্যমাণ বোধিপীঠ পাঠাগার পরিচালনার পাশাপাশি স্যাম্পান চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সহযোগিতায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা, মূল্যবোধের শিক্ষা, কুইজ, মেধা অন্বেষণ পরীক্ষার মতো বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সামাজিক কর্মসূচিও এর অন্তর্ভুক্ত।
আয়োজকদের মতে, বইয়ের পাতার শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য, অধিকার, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। আগামী দিনে কুল্পী ব্লকের গণ্ডি ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের আরও বিভিন্ন এলাকার বিদ্যালয়ে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সচেতন কিশোরীরাই গড়বে নিরাপদ সমাজ। বাল্যবিবাহ ও নারী পাচারের বিরুদ্ধে আজকের সচেতনতাই হোক আগামী দিনের শক্তি।