
গাইবান্ধা প্রতিনিধি, মোঃ মোনারুল ইসলাম
গাইবান্ধার ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী কেলেঙ্কারি, মাদকসেবন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে প্রশাসনিকভাবে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে পুরো ঘটনাকে ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রচারিত ঘটনাটি সাজানো এবং ভিত্তিহীন হতে পারে, কারণ এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তাদের দাবি, শুধুমাত্র অনলাইন পোস্ট ও কথিত তথ্যের ভিত্তিতে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে নিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয় অনেকের দাবি, সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচিত। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছেও পরিচিত মুখ ছিলেন।
তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে যে ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার অধিকাংশই তার ইউনিফর্ম পরা পুরোনো ছবি। এতে অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কহীন ছবি ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে, অভিযোগে গাইবান্ধার কয়েকজন পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নামও জড়ানো হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধেও এখন পর্যন্ত কোনো যাচাইকৃত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, এসব নাম জড়িয়ে তাদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তি জনপ্রিয় হলেই তাকে নিয়ে গুজব বা অপপ্রচার ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তাই অভিযোগ উঠলেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সামাজিকভাবে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করাও অনুচিত।
তাদের আরও দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার হতে পারে, কারণ এখন পর্যন্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ না পাওয়ায় পুরো ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্মানহানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সত্য উদঘাটনের দায়িত্ব তদন্ত সংস্থার। আবেগ নয়, প্রমাণই হওয়া উচিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি