
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৭ জন সদস্য গ্রেফতার; বিপুল পরিমাণ প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেক উদ্ধার করতে সক্ষম হয় এসআরবি-৩।
১। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন, এসআরবি বিভিন্ন ধরণের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, সাইবার অপরাধ, গুম, ভূমি দস্যুতা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানব পাচার, অপহরণ এবং মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
২। গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। উক্ত পরীক্ষায় মোট ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। পরীক্ষাটি সকাল ১১:০০ ঘটিকায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার দিন সকাল ১০:০৩ ঘটিকায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি স্থগিত করে।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক মতিঝিল থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে বলে জানা যায়।
৩। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এসআরবি গোয়েন্দা দল প্রশ্নপত্রের সম্ভাব্য গ্রাহক, সরবরাহকারী এবং মধ্যবর্তী বিতরণকারীদের বিষয়ে গোপন অনুসন্ধান পরিচালনা করে। অনুসন্ধানে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্নপত্রের সম্ভাব্য উৎস, সরবরাহের ধাপ এবং বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে প্রশ্নপত্র বিতরণকারীদের তথ্য উঠে আসে। তদ্যন্তে পাওয়া যায় যে এই চক্রের ব্যক্তিবর্গ মূলত Whats App এ ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকান্ড সম্পাদন করে থাকে।
৪। প্রাথমিক তদন্তে রুবেল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে আসে। যাকে ভর্তির সংক্রান্ত বানিজ্যের ব্যপারে চেকের মাধ্যমে অর্থ আদান প্রদান কালে আরো দুইজন এই চক্রের সদস্যসহ মতিঝিল হতে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের মোবাইল ফোন পর্যালচনা ও গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে বাকী চারজন কে গ্রেফতার করা হয়।
৫। রুবেল ইসলাম যিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, মফিজুল ইসলাম যিনি একজন চাকরি প্রত্যাশী ও এ চক্রের একজনকে ১৭ লক্ষ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়ে আরও বেশি পরিমাণে টাকা উপার্জন করার লক্ষ্যে এই চক্রের সাথে সংযুক্ত হয় – এর সাথে ভর্তি বানিজ্য সংক্রান্ত টাকা লেনদেন করতে ঢাকায় আসলে, এসআরবি-৩ এর একটি আভিযানিক দল গত ১৪ অক্টেবর ২৬ তারিখে মোঃ রুবেল ইসলাম (৩৩), মোঃ মফিজুল ইসলাম (২৩) এবং মোঃ হাসিনুর রহমান সুজন (৩২) কে মতিঝিল এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য মতে, এই চক্রের আরো ২ সক্রিয় সদস্য এনবিআরে কর্মরত একজন কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) ও আসাদুল ইসলাম (৩৩) যিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক তাদেরকে যথাক্রমে উত্তরখান ও এসআরবি-৪ এর সহায়তায় মিরপুর ১০ এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।
৬। তাদের মোবাইল এর chat history পর্যালোচনা করে প্রাপ্ত তথ্য মতে আমরা, নুর মোহাম্মদ (৩০) যিনি এনবিআর এ কর্মরত একজন অফিস সহায়ক তাকে গত ১৫ অক্টোবর তারিখে এসআরবি-৪ কর্তৃক সাভার এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ এসআরবি-৩ নুর মোহাম্মদ এর নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমান অনুযায়ী জাহাঙ্গীর (৩৮), কম্পিউটার আপারেটর হিসেবে ঘইজ এ কর্মরত, তাকে মোহম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।
৭। ধৃত অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নূর মোহাম্মদ সর্বপ্রথম আনুমানিক ভোর ০৪৪৩ ঘটিকায় একটি সূত্র মারফত প্রথম প্রশ্নপত্রের একটি অস্পষ্ট ছবি পায়। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর যিনি এনবিআরে কর্মরত একজন কম্পিউটার অপারেটর সকাল ০৬১৫ ঘটিকায় প্রশ্নপত্রের একটি স্পষ্ট ছবি নূর মোহাম্মদকে পুনরায় প্রেরণ করে। নূর মোহাম্মদ উক্ত প্রশ্নের উত্তরপত্র প্রস্তুত করে এবং তা জাহাঙ্গীর ও ইমদাদ কে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের নিজস্ব candidate ও এই চক্রের বিতরণকারী আসাদ (অফিস সহায়ক প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়), রুবেল (ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পরিবেশ অধিদপ্তর), মফিজ (সক্রিয় সদস্য) ও মফিজের সহযোগী এবং পধহফরফধঃব নিয়ে আসার মাঠ কর্মী হিসেবে নিয়োজিত সুজন (সক্রিয় সদস্য) দেরকে প্রদান করে।
৮। গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত হতে ১০০ টাকার স্ট্যাম্প ১১৬টি, ৫০ টাকার স্ট্যাম্প ৪টি, প্রশ্ন ০১ সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার এডমিট কার্ড ১৯ পাতা, সার্টিফিকেট-১০টি, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক ৪৮ পাতা, ব্যাংক চেক ০১টি, মোবাইল ফোন ০৮টি, বিভিন্ন ক্যাটাগরির সার্টিফিকেট ১৫টি, এনআইডি ০৬টি এবং নগদ ৪০০০ টাকা জব্দ করা হয়।
৯। ধৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।