
প্রতিবেদক:আরিফ রহমান, সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী)
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। জাতীয় দৈনিক ‘আমাদের সময়’-এর সোনাইমুড়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ হানিফকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
শনিবার (৯ মে) বেলা ১১টার দিকে সোনাইমুড়ী বাইপাস চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক খোরশেদ আলম, সামছুল আরেফিন জাফর, বেলাল হোসাইন ভূঁইয়া, আমিনুল ইসলাম মানিক, আনোয়ার বারী পিন্টু, ইয়াকুব আল মাহমুদ, মোহাম্মদ হানিফ, নূর মোহাম্মদ সবুজ, জসিম উদ্দিন রাজ, আরিফ রহমান, মনিরুজ্জামান, তাজুল ইসলাম, ইয়াছিন আবির, মাহবুব সহ আরও অনেকে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতন ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব অপরাধের সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না। অপরাধীরা প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে: সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল এ ঘটনায় সোনাইমুড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে তারা বলেন, প্রশাসন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। সাংবাদিক নেতারা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হুমকিদাতাদের গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে আরও বড় পরিসরে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কাফনের কাপড় পরিধান করে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
উল্লেখ্য, পার্শ্ববর্তী চাটখিল উপজেলার ইটভাটা ব্যবসায়ী জাবেদ হোসেনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে সম্প্রতি নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফের ওপর ক্ষুব্ধ হয়।
অভিযোগ উঠেছে, মো. রুবেল নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি দাবি করে মোবাইল ফোনে হানিফকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন। অডিও কল রেকর্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তোকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।” উক্ত কল রেকর্ডটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। এ বিষয়ে জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাইমুড়ী থানার এএসআই রেজাউল ইসলাম জানান, হুমকিদাতাকে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তকে শনাক্ত বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।