আনিসুজ্জামান, জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে রাজনৈতিক দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক সহায়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির প্রয়াত সভাপতি সাইফুল ইসলামের বিধবা স্ত্রী ঝুমা আক্তারকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে একটি সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার উত্তর জামষাইট গ্রামে প্রয়াত সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীর হাতে সেলাই মেশিনটি তুলে দেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা। পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং ঝুমা আক্তারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।সময় উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বনগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আবু ইছা, ইউনিয়ন প্রচার সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী, পেশাজীবী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, বিশিষ্ট সমাজসেবক চেরাগ আলী ও মো. মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত সাইফুল ইসলাম বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী ঝুমা আক্তার তিন মেয়েকে নিয়ে পারিবারিক নানা সংকটের মুখোমুখি হন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর জীবিকা নির্বাহের একটি স্থায়ী পথ তৈরির চিন্তা থেকে সেলাই মেশিন উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেয় উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। সেলাই মেশিনটি ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুমা আক্তার বাড়িতে বসেই সেলাইয়ের কাজ করে আয় করার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে যেমন তাঁর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে তিন মেয়েকে নিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহেও কিছুটা সহায়তা মিলবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁকে অন্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজের দক্ষতা ও শ্রমের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। সেলাই মেশিন প্রদান শেষে প্রয়াত সাইফুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ জীবনের শান্তি কামনা করা হয়। ঝুমা আক্তার বলেন, “আমার স্বামী বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। আমরা বিএনপির রাজনৈতিক পরিবারের হলেও জামায়াতে ইসলামী দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমাকে একটি সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে। আমার তিনটি মেয়ে রয়েছে। এমন সহযোগিতা আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো দলীয় ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। জামায়াতে ইসলামীর এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।” স্থানীয়দের মতে, বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও মানুষের দুঃসময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সামাজিক দায়িত্ববোধের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এ উদ্যোগকে অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং নারীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির একটি মানবিক প্রয়াস হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, সেলাই মেশিনটি ঝুমা আক্তারের জীবিকা নির্বাহে সহায়ক হবে এবং তিন মেয়েকে নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার পথে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। আনিসুজ্জামান জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ কার্ড নং ৮১ মোবাইল নাম্বার ০১৬৮৯৮৫৮৪২৭
35
আনিসুজ্জামান, জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ :
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে রাজনৈতিক দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক সহায়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির প্রয়াত সভাপতি সাইফুল ইসলামের বিধবা স্ত্রী ঝুমা আক্তারকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে একটি সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার উত্তর জামষাইট গ্রামে প্রয়াত সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীর হাতে সেলাই মেশিনটি তুলে দেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা। পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং ঝুমা আক্তারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।সময় উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বনগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আবু ইছা, ইউনিয়ন প্রচার সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী, পেশাজীবী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, বিশিষ্ট সমাজসেবক চেরাগ আলী ও মো. মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত সাইফুল ইসলাম বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী ঝুমা আক্তার তিন মেয়েকে নিয়ে পারিবারিক নানা সংকটের মুখোমুখি হন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর জীবিকা নির্বাহের একটি স্থায়ী পথ তৈরির চিন্তা থেকে সেলাই মেশিন উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেয় উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
সেলাই মেশিনটি ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুমা আক্তার বাড়িতে বসেই সেলাইয়ের কাজ করে আয় করার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে যেমন তাঁর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে তিন মেয়েকে নিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহেও কিছুটা সহায়তা মিলবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁকে অন্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজের দক্ষতা ও শ্রমের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
সেলাই মেশিন প্রদান শেষে প্রয়াত সাইফুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ জীবনের শান্তি কামনা করা হয়।
ঝুমা আক্তার বলেন, “আমার স্বামী বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। আমরা বিএনপির রাজনৈতিক পরিবারের হলেও জামায়াতে ইসলামী দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমাকে একটি সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে। আমার তিনটি মেয়ে রয়েছে। এমন সহযোগিতা আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো দলীয় ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। জামায়াতে ইসলামীর এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
স্থানীয়দের মতে, বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও মানুষের দুঃসময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সামাজিক দায়িত্ববোধের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।
কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এ উদ্যোগকে অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং নারীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির একটি মানবিক প্রয়াস হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, সেলাই মেশিনটি ঝুমা আক্তারের জীবিকা নির্বাহে সহায়ক হবে এবং তিন মেয়েকে নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার পথে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
আনিসুজ্জামান
জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
কার্ড নং ৮১
মোবাইল নাম্বার ০১৬৮৯৮৫৮৪২৭