বন্দির চাপে পুরোনো কারাগারে ফিরল প্রাণ, মাদক মামলার আসামিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
Update Time :
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
১৩
Time View
বন্দির চাপে পুরোনো কারাগারে ফিরল প্রাণ, মাদক মামলার আসামিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: বন্দির সংখ্যা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় চাপ সামলাতে আট বছর পর আবার চালু করা হয়েছে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরোনো জেলা কারাগার। তবে সাধারণ বন্দিদের পরিবর্তে সেখানে রাখা হচ্ছে মাদক মামলার আসামিদের। নতুন কারাগারের অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে এ উদ্যোগ নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। কিশোরগঞ্জ শহরের পুরোনো জেলা কারাগারটি ২০১৮ সালে নতুন কারাগার চালুর পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর গত ২০ জুন সংস্কার ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে কারাগারটি পুনরায় চালু করা হয়। বর্তমানে এটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাখার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৪৫ জন। অথচ সেখানে বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ২ হাজার ৩১২ জন। ফলে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে ১ হাজার ২৬৭ জন বেশি বন্দি অবস্থান করছেন কারাগারটিতে। অন্যদিকে, পুনরায় চালু হওয়া পুরোনো কারাগারের ধারণক্ষমতা ২৪৫ জন। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে রাখা হয়েছে ২৫৯ জন বন্দিকে। অর্থাৎ নতুন কারাগারের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুরোনো কারাগারেও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দি রয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন কারাগার থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ জন মাদক মামলার আসামিকে পুরোনো কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া মাদক মামলার আসামিদেরও সেখানে পাঠানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন কারাগারে বন্দির সংখ্যা ও ব্যবস্থাপনার চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন অপরাধ ও মাদকসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কারাগারে বন্দির চাপ বেড়েছে। এ ছাড়া বিচারাধীন মামলার আসামিদের বড় একটি অংশ কারাগারে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত বন্দির কারণে কারাগারের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায়ও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। আবাসন সংকটের পাশাপাশি খাবার সরবরাহ, চিকিৎসাসেবা, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ পরিস্থিতিতে পুরোনো কারাগারকে কাজে লাগিয়ে বন্দিদের একটি অংশকে আলাদা স্থানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুরোনো কারাগারটি পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এরপর সেখানে মাদক মামলার আসামিদের রাখা শুরু করে কর্তৃপক্ষ। তবে পুরোনো কারাগার চালুর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্দি ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি এলেও দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত বন্দির সমস্যা কতটা নিয়ন্ত্রণে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারাগারের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী বন্দির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আবাসন, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একসময় নতুন কারাগার চালুর কারণে পরিত্যক্ত হয়ে পড়া পুরোনো স্থাপনাটি এখন আবার কিশোরগঞ্জের কারা ব্যবস্থাপনার চাপ সামলাতে ভূমিকা রাখছে। তবে ক্রমবর্ধমান বন্দির চাপ মোকাবিলায় এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
15
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
বন্দির সংখ্যা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় চাপ সামলাতে আট বছর পর আবার চালু করা হয়েছে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরোনো জেলা কারাগার। তবে সাধারণ বন্দিদের পরিবর্তে সেখানে রাখা হচ্ছে মাদক মামলার আসামিদের। নতুন কারাগারের অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে এ উদ্যোগ নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কিশোরগঞ্জ শহরের পুরোনো জেলা কারাগারটি ২০১৮ সালে নতুন কারাগার চালুর পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর গত ২০ জুন সংস্কার ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে কারাগারটি পুনরায় চালু করা হয়। বর্তমানে এটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাখার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৪৫ জন। অথচ সেখানে বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ২ হাজার ৩১২ জন। ফলে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে ১ হাজার ২৬৭ জন বেশি বন্দি অবস্থান করছেন কারাগারটিতে।
অন্যদিকে, পুনরায় চালু হওয়া পুরোনো কারাগারের ধারণক্ষমতা ২৪৫ জন। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে রাখা হয়েছে ২৫৯ জন বন্দিকে। অর্থাৎ নতুন কারাগারের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুরোনো কারাগারেও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দি রয়েছেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন কারাগার থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ জন মাদক মামলার আসামিকে পুরোনো কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া মাদক মামলার আসামিদেরও সেখানে পাঠানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন কারাগারে বন্দির সংখ্যা ও ব্যবস্থাপনার চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন অপরাধ ও মাদকসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কারাগারে বন্দির চাপ বেড়েছে। এ ছাড়া বিচারাধীন মামলার আসামিদের বড় একটি অংশ কারাগারে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
অতিরিক্ত বন্দির কারণে কারাগারের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায়ও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। আবাসন সংকটের পাশাপাশি খাবার সরবরাহ, চিকিৎসাসেবা, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ পরিস্থিতিতে পুরোনো কারাগারকে কাজে লাগিয়ে বন্দিদের একটি অংশকে আলাদা স্থানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুরোনো কারাগারটি পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এরপর সেখানে মাদক মামলার আসামিদের রাখা শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
তবে পুরোনো কারাগার চালুর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্দি ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি এলেও দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত বন্দির সমস্যা কতটা নিয়ন্ত্রণে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারাগারের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী বন্দির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আবাসন, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একসময় নতুন কারাগার চালুর কারণে পরিত্যক্ত হয়ে পড়া পুরোনো স্থাপনাটি এখন আবার কিশোরগঞ্জের কারা ব্যবস্থাপনার চাপ সামলাতে ভূমিকা রাখছে। তবে ক্রমবর্ধমান বন্দির চাপ মোকাবিলায় এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।