
কামরুল০১৮৮৩০৮৮০৮৪
নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে মানহীন খাবার
সিএমপি মেট্রোপলিটনের বন্ধরটিল ষ্টিল মিল রেব৭ এলাকায় টি এসপি সরকারি কর্মকর্তা আলমগীর এর নেতৃত্বে অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে উঠেছে আইডিয়াল বেকারি। এই প্রতিষ্ঠানে খাদ্য উৎপাদনের মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে কেক, পাউরুটি, বিস্কুট, চানাচুরসহ নানা খাদ্যপণ্য, যা প্রতিদিনই পৌঁছে যাচ্ছে সিএমপি মেট্রোপলিটনের বিভিন্ন বাজার ও মানুষের খাবার টেবিলে। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ বেকারির নেই বিএসটিআইসহ প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও ছাড়পত্র নাই। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও কার্যকর তদারকি বা ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
পরিবেশ বিধ আবুল কালাম জানান, এই এলাকায় যেই বেকারি রয়েছে কোনটাতেই সরকারী কোন কাগজপত্র নেই। তবে কোনটিরই বিএসটিআই সনদ, ট্রেডমার্ক, পরিবেশ, মেডিকেল সনদসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সনদ ও ছাড়পত্র নেই।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব বেকারিতে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন মুদি দোকান, চায়ের দোকানসহ হাট-বাজারে এসব পণ্য অবাধে বিক্রি হচ্ছে। ব্রান্ডের তৈরি পণ্যের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় দোকানিরা এসব পণ্য বিক্রি করছেন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কারণে এসব খাদ্যপণ্য গ্রহণে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েরই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। খাবারে মেশানো হয় নানা ধরনের কেমিক্যাল, ভেজাল রঙ। বেশিরভাগ খাবারের মোড়কে নেই উৎপাদন-মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও মূল্য। নিয়মিত তদারকি বা নিয়মিত অভিযান না থাকায় মালিকরা স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এতে ভোক্তারা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করছেন, তেমনি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে বেকারিটা ঘুরে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারিতে কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ও চানাচুর তৈরি করছেন শ্রমিকরা। হাতে গ্লাভস পড়া ছাড়াই দুহাতে ময়দা পিষছেন শ্রমিকরা। কেউ কেউ খালি গায়ে কাজ করছেন। শ্রমিকদের অনেকেই ঘামে ভেজা শরীরে খাদ্য তৈরির কাজ করছেন। ময়দা প্রস্তুতের সময় শ্রমিকদের কপাল ও মুখ থেকে ঘাম ঝরে ময়দার মধ্যে পড়ছে। কেউ এক হাতে ধূমপান করছেন, অন্য হাতে করছেন কাজ। খোলা পরিবেশে কাজ করায় ধুলোবাড়ি উড়ে এসে পড়ছে। উৎপাদন খরচ কমাতে নিম্নমাণের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কারখানায় তৈরি খাদ্যপণ্যই বাহারি মোড়কে চলে যাচ্ছে ভোক্তার হাতে।
বন্দরটিলা ষ্টিল মিল এলাকায় বেকারির পরিচালক ইকবালের সাথে কথা উনার মোবাইলে কল দিলে উনি মোবাইল রিসিভ করেনাই,তবে ম্যানেজার বলেন তাদের বেকারির প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র রয়েছে। তবে এসব কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। পরে তিনি জানান, বেকারিটির মূল মালিক একজন সরকারি কর্মকর্তা উনি সাংবাদিক বা প্রশাসন কে ভয় করে না।
আরেকজন বলেন, “আমাদের শুধু খাদ্য লাইসেন্স আছে। প্রতিবছর জুনে অফিসে থেকে লোক এসে দিয়ে যায় বেকারির শ্রমিক বলেন, “সারাদিন আমাদের এই কাজের ওপরেই থাকতে হয়। এর জন্য হ্যান্ড গ্লাভস পড়া হয় না। তবে আমাদের হ্যান্ড গ্লাভস আছে। আর এতো নিয়মনীতি মেনে কাজ করা যায় না। নিয়ম ধরলে বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।”
উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শন করেন দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকা ও দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকার চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কামরুল
বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেটরা সময় দিতে পারেন না। আমি পুলিশের সহযোগিতা চাইলে আইন অনুযায়ী তারা দিতে বাধ্য। তবে, অনেক সময় তারাও নানা কাজের জন্য ফোর্স দিতে পারে না। এর জন্যই অবৈধ বেকারির বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে অভিযান বা নিউজ করা সম্ভব হয় না।”
সচেতন মহল বলেন, “নোংরা পরিবেশে খাবার উৎপাদন করলে পানিবানিত বিভিন্ন রোগ হতে পারে। খাবারে পোশাকের রঙ ও কেমিক্যাল ব্যবহার করলে সেটা ক্যান্সারজনিত রোগের কারণ হতে পারে। এসব খাবার খেলে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। সর্বোপরি স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকছেই।”
। মোবাইল কোর্ট চালু আছে কিন্তু দুঃখের বিষয় এই আইডিয়াল বেকারিতে কোন দিন অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায় না।”