কুলিয়ারচরের দুই বিদ্যালয়ে চালু হলো দুর্নীতিমুক্ত চর্চার ‘সততা স্টোর’
মাহিন আহমেদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
Update Time :
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
১২
Time View
কুলিয়ারচরের দুই বিদ্যালয়ে চালু হলো দুর্নীতিমুক্ত চর্চার ‘সততা স্টোর’
মাহিন আহমেদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সততা ও দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অর্থায়নে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘সততা স্টোর’ চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে পৃথক অনুষ্ঠানে স্টোর দুটির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলার লক্ষ্মীপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবং আগরপুর গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত এসব স্টোরের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ। তিনি ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টোর দুটির কার্যক্রমের সূচনা করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে সততা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে সহায়ক হবে এ কার্যক্রম। পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. ইদ্রিস মিয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক ইসতেহাদ আহমেদ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও লক্ষ্মীপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার। এ ছাড়া আগরপুর গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আবু বাক্কার ছিদ্দিক, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন খোকন এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি ও ফরিদপুর ইউনিয়নের আবদুল হামিদ ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাদির অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু চন্দ্র সূত্রধর, বড়চারা-আব্দুল্লাহপুর আইভি রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম ও আলি হায়দার শাহীন। এ সময় সাংবাদিক মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, আলী সোহেল, শাহীন সুলতানা, মাহিন আহমেদ, মো. সালাহ উদ্দিন ও মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিদ্যালয় দুটির সততা সংঘের সদস্যদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মনোনীত শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত এসব সততা সংঘের সদস্যদের হাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের লোগোসংবলিত বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন অতিথিরা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক দায়িত্ববোধের চর্চাকে আরও উৎসাহিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। সততা স্টোর মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার মতো মূল্যবোধ চর্চার একটি উদ্যোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে নৈতিক আচরণের গুরুত্ব উপলব্ধি করার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি এবং অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সচেতন অবস্থান নেওয়ার মানসিকতাও গড়ে উঠতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে নৈতিক শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সততার চর্চায় সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে সততা স্টোর ও সততা সংঘের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ উদ্যোগের প্রত্যাশিত সুফল পেতে নিয়মিত তদারকি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নৈতিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। কুলিয়ারচরের এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর চালুর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে সততা, ন্যায়নিষ্ঠা এবং দায়িত্বশীলতার মূল্যবোধ ধারণ করতে উৎসাহিত করবে।
20
মাহিন আহমেদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সততা ও দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অর্থায়নে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘সততা স্টোর’ চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে পৃথক অনুষ্ঠানে স্টোর দুটির উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলার লক্ষ্মীপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবং আগরপুর গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত এসব স্টোরের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ। তিনি ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টোর দুটির কার্যক্রমের সূচনা করেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে সততা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে সহায়ক হবে এ কার্যক্রম।
পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. ইদ্রিস মিয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক ইসতেহাদ আহমেদ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও লক্ষ্মীপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার।
এ ছাড়া আগরপুর গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আবু বাক্কার ছিদ্দিক, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন খোকন এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি ও ফরিদপুর ইউনিয়নের আবদুল হামিদ ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাদির অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু চন্দ্র সূত্রধর, বড়চারা-আব্দুল্লাহপুর আইভি রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম ও আলি হায়দার শাহীন। এ সময় সাংবাদিক মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, আলী সোহেল, শাহীন সুলতানা, মাহিন আহমেদ, মো. সালাহ উদ্দিন ও মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিদ্যালয় দুটির সততা সংঘের সদস্যদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মনোনীত শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত এসব সততা সংঘের সদস্যদের হাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের লোগোসংবলিত বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন অতিথিরা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক দায়িত্ববোধের চর্চাকে আরও উৎসাহিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
সততা স্টোর মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার মতো মূল্যবোধ চর্চার একটি উদ্যোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে নৈতিক আচরণের গুরুত্ব উপলব্ধি করার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি এবং অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সচেতন অবস্থান নেওয়ার মানসিকতাও গড়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে নৈতিক শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সততার চর্চায় সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে সততা স্টোর ও সততা সংঘের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ উদ্যোগের প্রত্যাশিত সুফল পেতে নিয়মিত তদারকি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নৈতিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।
কুলিয়ারচরের এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর চালুর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে সততা, ন্যায়নিষ্ঠা এবং দায়িত্বশীলতার মূল্যবোধ ধারণ করতে উৎসাহিত করবে।