সাকিব হোসেন পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ- সাড়ে ছয় মাস বয়সী শিশু আয়মানের লড়াইটা ছিল অসম। একদিকে তার নিষ্পাপ প্রাণ, অন্যদিকে হাম ও নিউমোনিয়ার মতো ঘাতক ব্যাধি। টানা এক মাস যমে-মানুষে লড়াই শেষে অবশেষে ৩ মে দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে। তার এই অকাল মৃত্যুতে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার নিজ গ্রাম ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার প্রবাসী আবু তালেবের ছেলে আয়মান। ঈদের আনন্দ শেষে দাদাবাড়ি রাজবাড়ী বেড়াতে গিয়েই প্রথম জ্বরে আক্রান্ত হয় সে। সেখান থেকে তাকে ফরিদপুরের জায়েদ মেডিকেল এবং পরবর্তীতে ১৯ এপ্রিল বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই প্রথম তার শরীরে হাম ও নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ধরা পড়ে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ২৭ এপ্রিল আয়মানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়। মাতুয়াইলের একটি হাসপাতালের পিআইসিইউ-তে (PICU) রেখে তিন দিনের বিশেষ চিকিৎসা চললেও ভাইরাসের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। ১ মে তাকে মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং পরদিন ২ মে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ৩ মে রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমায় এই লড়াকু শিশু। ভাগনের মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আয়মানের মামা কলেজ শিক্ষক সোহেল আহম্মেদ বলেন, "হাসপাতালে থাকাকালীন দেখেছি প্রতিদিন অনেক শিশু হামে মারা যাচ্ছে, কিন্তু গণমাধ্যমে বা পরিসংখ্যানে সেই সঠিক চিত্র উঠে আসছে না। একটি হাসপাতালেই যে পরিমাণ মৃত্যু হচ্ছে, সংবাদে দেখানো হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম।" হামের মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে আজও শিশুর মৃত্যু হওয়াকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি নিশ্চিত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয় বলে তারা জানান। ছোট্ট আয়মানের এই প্রস্থান একটি পরিবারকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে, কেড়ে নিয়েছে একগুচ্ছ রঙিন স্বপ্ন। তার মৃত্যু আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল সাকিব হোসেন পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি। তারিখ: ৪ মে ২০২৬ইং
70
সাকিব হোসেন পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ-
সাড়ে ছয় মাস বয়সী শিশু আয়মানের লড়াইটা ছিল অসম। একদিকে তার নিষ্পাপ প্রাণ, অন্যদিকে হাম ও নিউমোনিয়ার মতো ঘাতক ব্যাধি। টানা এক মাস যমে-মানুষে লড়াই শেষে অবশেষে ৩ মে দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে। তার এই অকাল মৃত্যুতে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার নিজ গ্রাম ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার প্রবাসী আবু তালেবের ছেলে আয়মান। ঈদের আনন্দ শেষে দাদাবাড়ি রাজবাড়ী বেড়াতে গিয়েই প্রথম জ্বরে আক্রান্ত হয় সে। সেখান থেকে তাকে ফরিদপুরের জায়েদ মেডিকেল এবং পরবর্তীতে ১৯ এপ্রিল বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই প্রথম তার শরীরে হাম ও নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ধরা পড়ে।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ২৭ এপ্রিল আয়মানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়। মাতুয়াইলের একটি হাসপাতালের পিআইসিইউ-তে (PICU) রেখে তিন দিনের বিশেষ চিকিৎসা চললেও ভাইরাসের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। ১ মে তাকে মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং পরদিন ২ মে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ৩ মে রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমায় এই লড়াকু শিশু।
ভাগনের মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আয়মানের মামা কলেজ শিক্ষক সোহেল আহম্মেদ বলেন, “হাসপাতালে থাকাকালীন দেখেছি প্রতিদিন অনেক শিশু হামে মারা যাচ্ছে, কিন্তু গণমাধ্যমে বা পরিসংখ্যানে সেই সঠিক চিত্র উঠে আসছে না। একটি হাসপাতালেই যে পরিমাণ মৃত্যু হচ্ছে, সংবাদে দেখানো হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম।”
হামের মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে আজও শিশুর মৃত্যু হওয়াকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি নিশ্চিত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয় বলে তারা জানান।
ছোট্ট আয়মানের এই প্রস্থান একটি পরিবারকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে, কেড়ে নিয়েছে একগুচ্ছ রঙিন স্বপ্ন। তার মৃত্যু আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও রূঢ় বাস্তবতার
মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল
সাকিব হোসেন
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি।
তারিখ: ৪ মে ২০২৬ইং