1. mdrouf834@gmail.com : দৈনিকবাংলাদেশপত্রিকা :
  2. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
Title :
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনে বাধার প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে মানববন্ধন টেকনাফের বাহারছড়ায় নির্বিচারে ঝিনুক উত্তোলন ও পাহাড় কাটা: হুমকির মুখে উপকূলীয় ঝাউবাগান, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ তরিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মান্দারতলায় কৃষকদলের প্রস্তুতি সভা ঝালকাঠিতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বালিয়াকান্দিতে ৩৪৫ পিস ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুইজন আটক গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিতে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে: এমপি মিলন গোদাগাড়ীতে নিষিদ্ধ জাল জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জরিমানা সিএমপি কমিশনারের ‘ওপেন হাউজ ডে’-তে সেবা নিলেন সেবাপ্রত্যাশীরা জামিনে মুক্তি পেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান সাধারণ মানুষের অভিযোগে দ্রুত সাড়া মাদক-কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযানে আলোচনায় ওসি আব্দুর রহিম

মরা গরুর মাংস বিক্রির অপচেষ্টা: দুই বিক্রেতার কারাদণ্ড ও জরিমানা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৫৩ Time View
101

‎বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
‎বাগেরহাটের রামপালে মরা গরুর মাংস বিক্রির সময় হাতেনাতে আটক দুই বিক্রেতাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
‎বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লা হাটে জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে মরা গরুর মাংস বিক্রির দায়ে দুই ব্যক্তিকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে অপরাধীদের হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. অভিজিৎ কুমার উপস্থিত থেকে জব্দকৃত মাংসের মান যাচাই করেন এবং তা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও পচনশীল হিসেবে শনাক্ত করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রামপাল উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের হারুন অর রশিদ এবং বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর এলাকার ইয়ামিন হাওলাদার। জনস্বার্থবিরোধী এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের এই শাস্তি প্রদান করা হয়।
‎স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অভিযুক্তরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই জঘন্য কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছিল। বাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি গরু মারা যাওয়ার পরপরই তারা কোনো প্রকার ভেটেরিনারি পরীক্ষা ছাড়াই সেটিকে জবাই করে মাংস বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসে। মাংসের তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত জনতা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেন। ভুক্তভোগী ক্রেতারা অভিযোগ করেন যে, অধিক মুনাফার আশায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিয়মিতভাবে অস্বাস্থ্যকর ও পচা মাংস বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনের সাথে ছিনিমিনি খেলছে। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই বিষাক্ত মাংস সাধারণ মানুষের বাসাবাড়িতে পৌঁছে যেত, যা বড় ধরনের খাদ্যজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মহামারির কারণ হতে পারত বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
‎অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ চক্রবর্তী জানান, ভেটেরিনারি সার্জনের প্রসিকিউশন রিপোর্টের ভিত্তিতেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত পচা মাংস স্থানীয়ভাবে মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে যাতে কোনোভাবেই তা পুনরায় বাজারে প্রবেশ করতে না পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেবল নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেই এ ধরনের অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। নিয়মিত হাটে নজরদারি বৃদ্ধি, মাংসের মান পরীক্ষার জন্য স্থায়ী মনিটরিং সেল গঠন এবং বিক্রেতাদের নৈতিক সচেতনতা তৈরিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
‎ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং গ্রামীণ জনপদে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য ব্যবসার একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। মরা পশুর মাংস বিক্রির মতো এমন অমানবিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় যথাযথ তদারকির অভাবে প্রায়ই অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং স্থানীয় বাজার কমিটির জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি হাটে নজরদারি জোরদার করা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে, নতুবা সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য সবসময়ই ঝুঁকির মুখে থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2026